
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি লড়াই চলছে। যে লড়াইয়ের মধ্যে অন্যতম একটি লড়াই হলো গণতান্ত্রিক লড়াই। আপনারা দেখেছেন যে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের জন্য আমরা আজীবন যুদ্ধ করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের লড়াইটা থাকবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশের সব ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে। যদি কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চালায়, ইনশাআল্লাহ রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকবো তাদের প্রতিরোধ করার জন্য। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিকদের দলে যোগদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে অনেকগুলো বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাবো, দেশের প্রয়োজনে যে কোনো কাজে বাংলাদেশের মানুষকে আমরা সার্ভ করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু সরকারকে খোলাসা করে বলতে হবে কেন লোডশেডিং হচ্ছে। সরকার বলছে যে জ্বালানি আছে, কিন্তু আমরা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে জ্বালানি পাচ্ছি না। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? যদি সরকার মনে করে যে এখানে সিন্ডিকেট আছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাহলে সরকার যদি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আহ্বান জানাক, তাহলে আমরা গিয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করবো। তিনি বলেন, আমরা আশা করি যে সরকার জনগণের সামনে এ বিষয়গুলো খোলাসা করবে। যাতে জনগণ দেশের এই ক্রান্তিকাল, এটা শুধু বাংলাদেশ না বৈশ্বিক ব্যবস্থা একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যে ইমারজেন্সি ক্রাইসিসগুলো, জ্বালানি সংকট রয়েছে- আশা করি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে পারবো।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আমাদের ফোন দিচ্ছে যে লোডশেডিংয়ের কারণে তারা পড়াশোনা করতে পারছে না। তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে এবং মার্কেটগুলোতে দেখেছি যে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিম্নমুখী হচ্ছে। জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। সেই জায়গায় আমরা এটাও চুপিসারে শুনতে পাচ্ছি- সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা তো দূরের কথা, সেখানে শুনলাম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গোপনে সরকার নোট ছাপাচ্ছে।