ঢাকা সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কৃষি খাতে তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনায় জোরদার

কৃষি খাতে তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনায় জোরদার

কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়ন, সহনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ কর্মশালার আয়োজন করে। গতকাল সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কৃষিখাতের নীতিমালা বিশ্লেষণের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন ও যাচাইয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে এই কর্মশালাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট ফর সাসটেইনেবল অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ইনভেস্টমেন্ট টুয়ার্ডস দ্য এগ্রিকালচার সেক্টর ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম অব বাংলাদেশ (এএসটিপি)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকায় আয়োজিত এই কর্মশালায় ৩৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে দেশের কৃষি নীতির বিশ্লেষণ, বিগত বছরগুলোর সরকারি ব্যয় এবং সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগের সঠিক রূপরেখা তৈরির মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতি-নির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, পরিসংখ্যানবিদ, গবেষক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং এফএও সদর দপ্তর ও বাংলাদেশ কার্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত প্রথম ইনসেপশন মিশন ও কারিগরি কর্মশালার ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়। ওই কর্মশালায় এফএও দলটি এমএএফএপি কর্মসূচি ও এর বিশ্লেষণ কাঠামো তুলে ধরে। পাশাপাশি কৃষিতে সরকারি ব্যয় বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ অপ্টিমাইজেশন মডেলিংয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা শুরু করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব রফিকুল ই. মোহাম্মদ কৃষিখাতের ভবিষ্যৎ রূপান্তরে তথ্যপ্রমাণ ভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর সরকারি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন আগের চেয়ে বেশি সহনশীল, জলবায়ু-সংবেদনশীল, বৈচিত্র্যময় ও বিনিয়োগমুখী কৃষিব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, তখন নীতিগত সমন্বয়, কৌশলগত সরকারি বিনিয়োগ ও বিশ্লেষণনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, এমএএফএপি কর্মসূচির মতো উদ্যোগ ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

এফএও’র কৃষি-খাদ্য অর্থনীতি ও নীতি বিভাগের উপপরিচালক মার্কো ভি. সানচেজ বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, বাজার অস্থিরতা, সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা এই অর্জনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, ‘কৃষি বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে আমাদের প্রমাণনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। যাতে খরচ হওয়া প্রতিটি টাকা এবং প্রণীত প্রতিটি কৃষিনীতি বাংলাদেশকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত