ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় ১৭ জুন

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় ১৭ জুন

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় ২০২২ সালে পাঁচ বছর বয়সি শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার মামলায় রায় ঘোষণা হবে ১৭ জুন। চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে গত শনিবার এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দিযেছেন। আদালত আগামী ১৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।’ ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত খুন হয়। তার মরদেহ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সারাদেশে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জানা যায় প্রতিবেশী আবীর আলী শিশু আয়াতকে খুন করেছেন। আবীর আলী বর্তমানে কারাগারে আছেন।

ঘটনার দিন বিকালে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আয়াত। ওই ঘটনায়ে আবীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আবীর স্বীকার করেন, আয়াতকে খুনের পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তখন পুলিশ জানিয়েছিল, আবীরের পরিবার প্রায় ২১ বছর নয়ারহাটে আয়াতদের ভাড়াটিয়া ছিল। তার জন্মও ওই বাড়িতে। তবে বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় পকেট বাজার এলাকায় আলাদা একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিল তার মা। ওই বাসায় আয়াতের লাশ নিয়ে রেখেছিলেন আবীর, আর লাশ গোপনের জন্য করেছিলেন ছয় টুকরা। জিজ্ঞাসাবাদে আবীর জানান, আয়াতদের নিচ তলায় যে বাসাটিতে তার বাবা থাকেন, সেটির চাবি তার কাছেও ছিল। ১৪ নভেম্বর বিকালে আয়াতকে কোলে নিয়ে তিনি তাদের ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করেন। আবীরকে আটক করার পর ওই বছরের ২৫ নভেম্বর পিবিআই জানিয়েছিল, ‘মুক্তিপণের’ জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে হত্যা করেন। তারপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেজন্য একটি মোবাইলও কেনেন। আর আগে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিম তার সংগ্রহে ছিল।

কিন্তু সেটা সচল না থাকায় ফোন করতে পারেননি। আবীরকে নিয়ে পিবিআই সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি এবং আয়াতের জুতা উদ্ধার করেন। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন স্লুইচ গেইটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। ওই ঘটনায় আয়াতের বাবা ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আবীরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেও গোপন রাখার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সি অন্য এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের ছিটার ডিএনএ পরীক্ষা করে তার সঙ্গে শিশু আয়াতের ডিএনএর সাথে মিল পায় পিবিআই।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত