ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বৃষ্টিতে বরিশালে বেড়েছে সবজি-মাছের দাম

বৃষ্টিতে বরিশালে বেড়েছে সবজি-মাছের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে বরিশালের পাইকারি বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজি ও মাছের দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। এমন অবস্থায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমায় বাড়ছে দাম। তবে দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগির বাজারে। গতকাল সোমবার সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু পেঁপে, পটোল, চিচিঙ্গা, ঢ্যাঁড়স ও ঝিঙে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, পটোল ৫০, চিচিঙ্গা ৫০, ঢ্যাঁড়স ৬০ এবং ঝিঙে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন ১১০-১২০ টাকা, শসা ৮০-১০০, কাঁচামরিচ ২৩০-২৬০, টমেটো ১৮০-২০০, গাজর ১৪০, করলা ৮০-৮৫, বরবটি ৮০ এবং কাঁকরোল ও কচুর লতি ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এমন অবস্থায় বাজারে গিয়ে বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা।

বাংলাবাজারে আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, কিছুদিন আগেও সবজির দাম নাগালের মধ্যে ছিল, এখন আবার সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এমন দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরেক ক্রেতা ছাইদুর রহমান বলেন, ক’দিন আগেও কাঁচামরিচ ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে, এখন সেই মরিচ ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আস্তে আস্তে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কমেছে সবজির সরবরাহ। যার প্রভাব পড়েছে দামে। শুভ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন অনেক জায়গায় পানি। যে কারণে সরবরাহ একটু কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একই চিত্র নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মাছ বাজারেও। নদীর মাছের সরবরাহ না থাকায় চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে চাষের মাছের। সপ্তাহ ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে কেজিতে বেড়েছে ২০-৫০ টাকা। তাই তো পছন্দের মাছ কিনতে না পারার আক্ষেপ ক্রেতাদের কণ্ঠে। শামিম নামে এক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই চিংড়ি মাছ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া মাছ কিনতে হয়েছে।

আরেক ক্রেতা সোহেল বলেন, এখন সাধারণ মানুষের পক্ষে ভালো কোনো জাতের মাছ কেনা সম্ভব নয়। আর ইলিশ তো এখন স্বপ্ন। আগে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে এলে মাছ-সবজি দুটোই কেনা যেত, এখন এক হাজার টাকায় এক ধরনের মাছই কিনতে পারা যায় না। তাই সাধ্যের মধ্যে দুই কেজি পাঙ্গাশ মাছ কিনেছি। এদিকে মৌসুম চললেও বাজারে নেই পর্যাপ্ত ইলিশ। যা-ও মিলছে দাম চড়া। আকারভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২৮০০ টাকায়। এমন অবস্থায় কমেছে বিক্রি। ব্যবসায়ীদের দাবি আগে দেড় থেকে ২ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও এখন তা নেমেছে লাখের কোটায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত