
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘেœর কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিন দেওয়াসহ এ সময়ে কোনো ধরনের জরিমানা না করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাহীন বিঘেœর কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত ছাঁটাই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের প্রায় সব কারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয় মারাত্মকভাবে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিল্পমালিকদের পণ্যের উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও শিল্পোদ্যোক্তাদের এই ক্ষতির ধকল বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রয় ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও তাদের ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হলে তা শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াবে।
একই সঙ্গে এটি দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ অবস্থায় গার্মেন্টস ও সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পমালিকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
এ ক্ষতির প্রভাব আগামী কয়েক মাসও তাদের বহন করতে হবে।
শিল্পমালিকদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে যে প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে: বর্তমানে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা; অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া ; মাসে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়া। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।