ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজশাহীর মিডলচরে বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়

ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার
রাজশাহীর মিডলচরে বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়

রাজশাহীর পদ্মা নদীর মাঝের চরাঞ্চল ‘মিডলচর’ এখন নগরবাসীর অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই রাজশাহী নগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নৌকায় পদ্মা নদী পেরিয়ে এই চরে ঘুরতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিতি বাড়ছে।

তবে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লেও তাদের নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করা হচ্ছে। নৌকায় যাত্রী ওঠানোর ক্ষেত্রেও নেই দৃশ্যমান কোনো নিয়ন্ত্রণ বা শৃঙ্খলা। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌদুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন দর্শনার্থীরা। গত মঙ্গলবার নগরীর মিজানুর মোড়সংলগ্ন নদীপাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতশত মানুষ নৌকায় পদ্মা নদী পেরিয়ে মিডলচরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। নদী পারাপারের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একেকটি নৌকায় ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে।

যাত্রীদের কারও কাছেই নেই লাইফ জ্যাকেট। নৌকাতেও পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেখা যায়নি। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, নদীতে নৌকাগুলো অনেকটা ইচ্ছেমতো চলাচল করছে। নৌকায় ওঠার সময় যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে মাঝনদীতে কোনো নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে মিডলচরে যাতায়াতের জন্য প্রায় ৮ থেকে ১০টি নৌকা চলাচল করছে। এসব নৌকায় যাত্রীপ্রতি যাওয়া-আসার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বলেন, মিডলচরে আসা-যাওয়ার জন্য নৌকায় জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। নৌকায় লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, কোনো নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে একসঙ্গে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক তরুণ-তরুণী আড্ডা দেন। কিশোর-কিশোরীরাও ঘোরাফেরা করে। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সহায়তা করার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিরাপত্তাকর্মী সেখানে নেই। নদীর ওপারে মিডলচরে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা দলবেঁধে চরে অবস্থান করছেন। অনেকে সন্ধ্যার পরও সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন।

তবে চর এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতিও নেই। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অনেকটাই অন্ধকার ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। মিডলচরে দর্শনার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও নিরাপদ নদী পারাপার, পর্যাপ্ত আলো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌকায় ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ এবং চর এলাকায় প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘুরতে আসা মো. মাহফুজ বলেন, সন্ধ্যা নামলেই ওই দিকটা অন্ধকার হয়ে যায়। সেখানে কোনো লাইট বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, চরে সাপসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। পানি ও বাতাসের কারণে অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। কিন্তু এখানে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

রাজশাহী মহানগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বিকাশ মণ্ডল বলেন, মিডলচর নামে নতুন একটি চর জেগে ওঠার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আপনার কাছ থেকে বিষয়টি জানলাম। আমরা খোঁজখবর নেব এবং যারা নদী পারাপার করছেন, তাদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার না হওয়ার জন্য অনুরোধ করব। তিনি বলেন, আমাদের যেসব ঘাট রয়েছে, সেসব ঘাটে প্রায় প্রতিদিনই মাঝিদের সতর্ক করা হয়। নৌকায় যাত্রী পারাপারের সময় অন্তত জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তা উপকরণ রাখার জন্য তাদের বলা হয়। নদী পারাপারের সময় জীবনের ঝুঁকি না নিতে আমরা সবসময় মানুষকে সচেতন করি। তিনি বলেন, নৌ পুলিশ সবসময়ই মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন সভা, মিছিল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমেও আমরা সবাইকে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানাই।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত