ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্লাস্টিকে শ্বাসরুদ্ধ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

প্লাস্টিকে শ্বাসরুদ্ধ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

মাত্র দুই বছরের শিশুকন্যা আরশা। জীবনে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার এসেছে সে। চাঁদের আলোতে কী চমৎকার করে বাবার হাত ধরে হাঁটছে সমুদ্র সৈকতে। দূরে গর্জন তুলে আছড়ে পড়ছে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ। তীরে ছোট্ট পা দু’টো যখন ভেজা বালু ছুঁয়ে যাচ্ছে, তার চোখে-মুখে সে কী বিষ্ময় ও আনন্দ! সৈকতের ভেজা বালু কিছুতেই ছাড়তে চায় না সে।

সমুদ্রের গর্জন আর শিশুটির উচ্ছ্বাস মিলে তৈরি হচ্ছে যেনো এক অপার মিতালি।

কিন্তু আনন্দময়ী আরশা কি জানে, তার চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল-বাটি, চা-কফির কাপ, খাবারের প্যাকেট, পলিথিনের ব্যাগসহ হাজারো বিষাক্ত বর্জ্য? কোথাও লবনপানিতে ভাসছে এসব বর্জ্য, কোথাও আবার ভেজা বালুর ওপর আটকে আছে। ঢেউ এসে কিছু বর্জ্যকে সমুদ্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু ফিরিয়ে দিচ্ছে সৈকতে। যেগুলো একটু একটু করে ধ্বংস কররে দিচ্ছে আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশকে!

জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয় অন্তত ৬০ কেজি খালি পানির বোতল, ৫ হাজারের বেশি ওয়ানটাইম চায়ের কাপ ও মাস্ক এবং এক ট্রাকের বেশি চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, ডাবের খোসা ও পলিথিন।

গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক কখনো হারিয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ, লবণাক্ত পানি ও ঢেউয়ের আঘাতে এগুলো ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। তৈরি হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিকে। এগুলো তখন আর খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সমুদ্রের পানিতে, তলদেশে থেকে যায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত