ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিলেটে তিন খুন

মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি

মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর তিন খুনের মামলার তদন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তানরা। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর গতকাল সোমবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের ছেলে আরিফ ইফতেখার, মেয়ে ও মামলার বাদী সেলিনা সুলতানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আরিফ ইফতেখার। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তবে তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।

মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে বলে আমরা আশা করি।’ তিনি আরও বলেন, তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে কেউ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতার বাইরে যেতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ কারণে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আব্দুস সাত্তার ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন তিনি। তার চার সন্তানের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্য ও দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। হত্যাকাণ্ডের দিন বেলা তিনটার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই তিনজনকে হত্যা করা হয়। পরে বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

তবে হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহত দম্পতির পরিবার। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর শুক্রবার রাতে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। গত রোববার বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত