ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী উত্তরাঞ্চলে শঙ্কা

হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী উত্তরাঞ্চলে শঙ্কা

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব বেড়েছে দ্বিগুণ। একই সময়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালেও প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন ডেঙ্গু রোগী। ফলে দুই জেলাতেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কোনো এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব বোঝার একটি কীটতাত্ত্বিক সূচকের নাম ব্রেটো সূচক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী নগরীর পাঁচটি এলাকায় এই সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩। গত মে মাসে একই এলাকায় এ সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। গত ৩ থেকে ১০ আগস্ট রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা, চণ্ডিপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকায় এ জরিপ চালানো হয়। এ সময় ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। একই সময়ে ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্র পরীক্ষা করে ৪৬টিতেই এডিসের লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জরিপে বিভিন্ন প্রজননস্থল থেকে ৬৮৫টি মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস এবং ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি। বাকি ৯৪টি ছিল অন্য প্রজাতির মশার লার্ভা। ফুলদানি, প্লাস্টিক ও সিরামিকের টব, মাটি ও টিনের পাত্র, নারকেলের খোসা, সিমেন্টের টব, ড্রাম, জলমগ্ন মেঝে, রঙের বালতি ও প্লাস্টিকের বালতিতে এসব লার্ভা পাওয়া গেছে।

এডিস মশার প্রজননের উচ্চ ঘনত্ব বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনও এলাকায় ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সর্বশেষ জরিপে রাজশাহীর সূচক ৬১ দশমিক ৩৩ হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুধু মশার প্রজনন নয়, রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০ জুলাই এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে। আগস্টে রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ৬ আগস্ট হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ১৩ জন। ৮ আগস্ট ২৩ জন, ৯ আগস্ট ২৬ জন এবং ১০ আগস্ট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ জনে। গত ১৫ আগস্ট সর্বোচ্চ ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর ১৬ আগস্ট ২৭ জন, ১৭ আগস্ট ২৫ জন এবং ১৮ আগস্ট ৩২ জন রোগী ছিলেন। ১৯ আগস্ট হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ২৮ জন। ২০ আগস্টও হাসপাতালে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, ‘গত ১১ আগস্ট হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে রোগীর চাপ কিছুটা বাড়ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা দিতে হাসপাতালের প্রস্তুতি রয়েছে।’ রাজশাহী নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘মশার উৎপাত বেড়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের তেমন জোরালো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকেও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।’ এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ‘ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে এর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলার ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এখনও ডেঙ্গুর মূল ঢেউ শুরু হয়নি; বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সূত্রে ২১ আগস্ট পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, ২০ জন নারী ও সাতজন শিশু। শিশুদের মধ্যে ছয়জন ছেলে ও একজন মেয়ে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৫০ জন রোগী। এরপর ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ৩৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জন হাসপাতালের বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী ও ৩ জন শিশু। শিশুদের মধ্যে একজন ছেলে ও দুজন মেয়ে। ২১ আগস্ট চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ জন রোগী। ছাড়পত্র পাওয়া এসব রোগীর মধ্যে ১৪ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও চার জন শিশু। শিশুদের মধ্যে একজন ছেলে ও তিন জন মেয়ে। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য একজন নারী রোগীকে রাজশাহীতে রেফার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত