
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিজ ঘরের ভেতরে চা দোকানি ফারুক শেখ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা দা, পোশাক, মোবাইল ফোন ও মাস্ক। গতকাল রোববার রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সামসুল হক। তিনি জানান, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন ফারুক শেখ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বারেক শেখ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন। পারিবারিক কলহ, তাদের মাকে মারধরের অভিযোগ এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের কাছে তিনি জানান। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বারেক শেখ দৌলতদিয়া এলাকার দুই পরিচিত আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে নিয়োগ করেন তিনি। সামসুল হক জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে গেলে তিনি আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা দুটি ধারালো দা তাদের হাতে তুলে দেন। এরপর বারেক অন্যত্র চলে যান। পরে আলমগীর ও রুবেল ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে বারেক শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন দৌলতদিয়ার হোসেন মণ্ডলপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার রুবেল ও আলমগীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।