
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
গত শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তারা মেধাবীদের মধ্যে মেধাবী। ভর্তির মাধ্যমে তাদের মেধার উৎকর্ষ ও স্বপ্ন পূরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষ স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন পূরণ হয় না। তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জ্ঞানের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে তাদের দেশ ও সমাজকে আলোকিত করতে হবে। জ্ঞান যত বেশি অর্জন করা যাবে, জীবন তত সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সুযোগ ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।
শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা বা হতাশা এলে নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তিনির্ভর মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। তবে নিজের মত প্রকাশের সময় অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে স্বাধীনতার চর্চা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগতভাবে কাজ করা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমাজ ও দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎপাদিত জ্ঞান ও গবেষণার ফল মানুষের কল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। রাবির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়নে ইউজিসির মনোযোগ রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এএইচএম খুরশীদ আলম ও প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান।