
বিশ্ববাজারে স¦র্ণের দামে অস্বাভাবিক উত্থানের পর হঠাৎ করেই বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স¦র্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যার প্রভাব এরই মধ্যে দেশের বাজারেও পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে দেশে আবারও স¦র্ণের দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। কারণ বিশ্ববাজারে ৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স¦র্ণের দাম কমেছে ৬ ডলারের ওপরে। এখন দাম কমলেও এর আগে স¦র্ণের দামে বড় উত্থান হয়। ৬ মাসের মধ্যে এক আউন্স স¦র্ণের দাম ৩ হাজার ৪০০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৪০০ ডলারের ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ প্রতি আউন্স স¦র্ণের দাম ২ হাজার ডলার বেড়ে যায়।
এমন অস্বাভাবিক উত্থানের পর এখন দরপতন দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতন হওয়ায় দেশের বাজারেও স¦র্ণের দাম কমানো হয়েছে। গত ১৯ মার্চ একদিনে ভালো মানের এক ভরি স¦র্ণের দাম কমানো হয় ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা।
এতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স¦র্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স¦র্ণ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স¦র্ণ ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক স¦র্ণে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এই দামেই স¦র্ণ বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বাজারে সর্বশেষ স¦র্ণের দাম কমানোর পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স¦র্ণের দাম কমেছে প্রায় ৫০০ ডলার। ফলে দেশের বাজারেও যে কোনো সময় স¦র্ণের দাম বড় অঙ্কে কমানো হতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) দায়িত্বশীল এক সদস্য বলেন, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম কমেছে তাতে দেশের বাজারেও স¦র্ণের দাম কমানো হবে। তবে ঈদের বন্ধের কারণে গত কয়েকদিনে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। ঈদের ছুটি শেষে স¦র্ণের দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৯ মার্চ দেশের বাজারে যখন স¦র্ণের দাম কমানো হয়, সেসময় বিশ্ববাজারে এক আউন্স স¦র্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৮৬০ ডলারের মতো। এখন (২৩ মার্চ ১১টা ২০ মিনিটের দিকে) প্রতি আউন্স স¦র্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৩৬৬ ডলারে নেমে গেছে। অর্থাৎ দেশের বাজারে স¦র্ণের দাম কমানোর পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স¦র্ণের দাম ৫০০ ডলার কমে গেছে। আর এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ৬০০ ডলার।
এই দাম কমার আগে বিশ্ববাজারে স¦র্ণের দামে বড় উত্থান হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক আউন্স স¦র্ণের দাম ছিল ৩ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে। সেখান থেকে দফায় দফায় বেড়ে চলতি বছরের ২ মার্চ এক আউন্স স¦র্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৪০৮ ডলারে উঠে যায়। এই রেকর্ড উত্থানের পর এখন দরপতন দেখা যাচ্ছে।