
অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে সব ধরনের পণ্য শতভাগ বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পণ্য আমদানিতে এখন পুরো অর্থায়ন করতে পারবে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। ফলে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় এসএস পাওয়ার-১-কে কোনো আগাম অর্থ দিতে হবে না। গত রোববার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ করা হবে না। জানা গেছে, অর্থসংকটের কারণে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডও খেলাপি হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। প্রতিষ্ঠানটির জন্য শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চায় রূপালী ব্যাংক।
ব্যাংকটির আবেদনে সাড়া দিয়ে এসএস পাওয়ার-১-কে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর নতুন ঋণ না পাওয়া এবং বিভিন্ন মামলার কারণে গ্রুপটির অধিকাংশ ব্যবসা সংকটে পড়ে। বর্তমানে তাদের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে সক্রিয় রয়েছে।
জানা গেছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডে এস আলম গ্রুপের মালিকানা আছে ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বড় অংশ খেলাপি। নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণসুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ নেই।