ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে বাংলাদেশের ছয়ে ছয়

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে বাংলাদেশের ছয়ে ছয়

আগের ম্যাচ জিতেই মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তাই সুপার সিক্সে শেষ দুই ম্যাচ ছিল অনেকটা নিয়মরক্ষার। তাছাড়া দলও জয়রথেই ছিল। তবে অধিনায়কের ব্যাটে ছিল না রান। প্রথম পাঁচ ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৮ রান। অবশেষে রানে ফিরলেন অধিনায়ক, এক ম্যাচেই ছাড়িয়ে গেলেন আগের সব ম্যাচকে। দারুণ ফর্মে থাকা সোবহানা মোস্তারি উপহার দিলেন আরেকটি আগ্রাসী ইনিংস। জয়ের ধারা ধরে রাখল বাংলাদেশ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ের সুপার সিক্সে স্কটল্যান্ডকে ৯০ রানে হারাল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে রানের হিসাবে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই বাছাই শুরু করা নিগারের দল প্রত্যাশিতভাবেই ছয় ম্যাচে জিতল ছয়টিই। গতকাল শুক্রবার নেপালের কির্তিপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ২০ ওভারে তোলে ১৯১ রান। এই সংস্করণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি। এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলতে থাকা ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস গড়ে তোলেন শক্ত ভিত। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৭ রান, যা পুরো ইনিংসের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। দিলারা ঝরঝরে ব্যাটিংয়ে করেন ৩৯ রান। আর জুয়াইরিয়া ২২ রান যোগ করে সাজঘরে ফেরেন।

এরপর মাঝের ওভারে কিছুটা গতি কমলেও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারির ব্যাটে আবারও তাণ্ডব শুরু হয়। দুই জনের আগ্রাসী জুটিতে স্কটিশ বোলিং আক্রমণ ভেঙে পড়ে। মাত্র ৩৫ বলে ৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন জ্যোতি। যেখানে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কার মার। অন্য প্রান্তে সোবহানা মোস্তারি ২৩ বলে ৪৭ রান করে ইনিংসকে আরও সমৃদ্ধ করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯১। যা টি-টোয়েন্টিতে দলটির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান।

এই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষ শিবিরে ধাক্কা দেন মারুফা আক্তার। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইউরোপীয় দলটি। শেষ পর্যন্ত পুরো ২০ ওভার খেলেও তারা ৯ উইকেটে মাত্র ১০১ রান তুলতে সক্ষম হয়।

স্কটল্যান্ডের হয়ে পিপা স্প্রাউল সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন। মেগান ম্যাককল যোগ করেন ২০। বাংলাদেশের বোলিংয়ে মারুফা আক্তার ছিলেন সবচেয়ে ধারালো। ৩টি উইকেট নেন তিনি। স্বর্ণা আক্তার তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

এই জয়ের মাধ্যমে একাধিক মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। রানের ব্যবধানে এটি তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ জয়। পাশাপাশি চলতি বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকার ধারাও অটুট রইল। এর আগেই টানা তিন ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছিল টাইগ্রেসরা।

বিশ্বকাপের আগে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স, বিশেষ করে টপ অর্ডারের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং ও বোলিং আক্রমণের ধার, নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। প্রস্তুতির এই ছন্দ যদি মূল মঞ্চেও বজায় থাকে, তাহলে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ নারী দল। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ আগামীকাল রোববার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ডাচ মেয়েরাও বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে আগেই।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত