
দুই দিন আগে ব্যাট ও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে অনায়াসে জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার এবার হলো উল্টো অভিজ্ঞতা। চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় বাজে বাটিংয়ে কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারল না তারা। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত আঘাত হেনে বড় জয় তুলে নিল নিউজিল্যান্ড। হ্যামিল্টনে গতকাল মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের জয় ৬৮ রানে। ১৭৫ রানের সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে ১০৭ রানে গুটিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড, ২৭ বল বাকি থাকতে। পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে এখন ১-১ সমতা। প্রথম ম্যাচে গত রোববার কিউইদের ৯১ রানে আটকে ২০ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জিতেছিল সফরকারীরা।
নিউজিল্যান্ডকে সমতায় ফেরানোয় সবচেয়ে বড় অবদান ডেভন কনওয়ের। ওপেনিংয়ে নেমে ৬০ রানের ইনিংসে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। ম্যাচ সেরাও হন তিনি। পরে তিনটি করে উইকেট নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন লকি ফার্গুসন ও বেন সিয়ার্স।
প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পথ হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এবার প্রতিপক্ষের চাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ ভালো শুরু করে দলটি। যদিও আবারও ব্যর্থ হন টম ল্যাথাম (১১)। আগের ম্যাচে সাত রান করা এই ব্যাটসম্যান উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান তোলার পর ফিরে যান সপ্তম ওভারে। পরের ওভারে লাগে আরেক ধাক্কা, মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন টিম রবিনসন। তবে নিক কেলি (২১) ও মিচেল স্যান্টনারের (২০) সঙ্গে ছোট দুটি জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন কনওয়ে।
ষোড়শ ওভারের তৃতীয় বলে ভিয়ান মুল্ডারের ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় কনওয়ের ইনিংস। ৪৯ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। দ্রুত ফিরে যান জিমি নিশামও। তবে এরপর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ এক জুটি গড়েন কোল ম্যাকনকি ও জস ক্লার্কসন; ১৩ বলে ৩৫ রান তোলেন দুজন মিলে। ম্যাকনকি ১২ বলে একটি করে ছক্কা-চারে করেন ১৮ আর ক্লার্কসন ৯ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় করেন ২৬ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার মুল্ডার, ১৪ রানে দুই উইকেট নেন তিনি।
রান তাড়ায় শুরুটা খুব খারাপ ছিল না প্রোটিয়াদের। তবে পঞ্চম ওভারে কনর এস্তারহুইজেনের বিদায়ের পর, কোনো জুটিই গড়তে পারেনি তারা। প্রথম ম্যাচে আন্তর্জ্যাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই সফল রান তাড়ায় দলের সর্বোচ্চ ৪৫ রান করা এই ব্যাটসম্যান এবার করতে পারেন আট রান। দলের স্কোর একই থাকতে ফিরে যান আরেক ওপেনার মুল্ডারও (১৬)। আর দুই রান যোগ হতে বিদায় নেন টনি ডি জর্জি, তাদের রান তখন তিন উইকেট ৩১।