
ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের আসরের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরানের খেলাগুলো পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবুও প্রস্তুত হচ্ছে ইরান। বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে চলছে ইরানের প্রস্তুতি। গণমাধ্যম থেকে দলকে দূরে রেখেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা চলছে ইরানে। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল দল নিয়ে আগ্রহ এখন তুমুল। তবে খেলোয়াড় ও কোচদের এসব থেকে দূরে রাখতে চায় ফেডারেশন।
ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালিয়ার নিকটবর্তী বেলেকে একটি অনুশীলন সেশন করেছে ইরান। গণমাধ্যমের জন্য ছিল কড়া বিধিনিষেধ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই দুই প্রীতি ম্যাচকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা করে ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, খেলোয়াড়দের বাইরের আলোচনা থেকে দূরে রাখতে চান তারা। গত সপ্তাহে ফেডারেশনের প্রধান মাহদি তাজ বলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা শঙ্কায় ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নিতে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছেন তারা। গণমাধ্যম থেকে দূরে আছেন খেলোয়াড় ও কোচরা। কোনো সাক্ষাৎকার দেননি তারা। একজন প্রতিনিধি বলেছেন, দলের মনোযোগ কেবল আসন্ন দুটি ম্যাচের দিকে। আন্তালিয়ায় আগামী শুক্রবার নাইজেরিয়া ও মঙ্গলবার কোস্টা রিকার মুখোমুখি হবে ইরান।
প্রীতি ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা ছিল জর্ডানে। তবে ইরান যুদ্ধের পর সরিয়ে নেওয়া হয় তুরস্কে। আলো ঝলমলে দিনে অনুশীলন সেশনে খেলোয়াড়দের নিরুদ্বেগ মনে হয়েছে। খেলোয়াড় ও স্টাফদের কথা বলতে ও নিজেদের মধ্যে মজা করতে দেখা গেছে। গ্রিসে নিজের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে খেলার সময় প্রতিপক্ষের একজন ইসরায়েলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদল করে আলোচনায় থাকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি ছিলেন অনুশীলনে।
এদিকে দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মেদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করায় দল থেকে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় সর্দার আজমাউনকে। ইরানের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, সরকারের প্রতি অবাধ্যতার জন্য বাদ দেওয়া হয়েছে দেশের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭৮ গোল করা স্ট্রাইকারকে।