ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জাতীয় স্কুল ক্রিকেট উৎসব শুরু আজ

জাতীয় স্কুল ক্রিকেট উৎসব শুরু আজ

ক্রিকেট নিয়ে নিয়মিত যেসব অভিযোগ আছে তার অন্যতম, দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন ঠিক নেই। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে না আনলে সামনে সংকট তৈরি হবে। সেই সংকট কাটাতে এবং খেলাকে স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ‘প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেট।’ এরইমধ্যে ১০টি আসর শেষ হয়েছে। প্রাইম ব্যাংকের পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্ত্বাবধানে মাঠে গড়াতে চলেছে একাদশ আসর। আজ থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এবং দেশের সব প্রান্তের প্রতিভাবান ক্ষুদে ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিতে ২০১৫ সাল থেকেই বিসিবির সঙ্গে স্কুল ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সম্পৃক্ত প্রাইম ব্যাংক। এ বছর ৬৪ জেলা থেকে অংশ নিচ্ছে ৩৫০ স্কুলের সাড়ে আট হাজারের বেশি ক্রিকেটার। ম্যাচের সংখ্যা ৬৫১। ১০ এপ্রিল শুরু হয়েছে জেলা পর্যায়ের ম্যাচগুলো। এরপর হবে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা।

‘প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট ২০২৫-২৬’ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজন করা হয় প্রেস কনফারেন্স। উন্মোচন করা হয় জার্সি। প্রেস কনফারেন্সে প্রাইম ব্যাংক পিএলসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. নাজিম এ. চৌধুরী এবং সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স সৈয়দ রায়হান তারিক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উপস্থিত ছিলেন স্কুল ক্রিকেট খেলা জাতীয় দলের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়ও।

স্কুল ক্রিকেট নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি যে স্কুল ক্রিকেটটাকে খুব বড় করে দেখা উচিত এবং যারা দায়িত্বে আছেন ক্রিকেট বোর্ড এবং প্রাইম ব্যাংককে ধন্যবাদ যে এত সুন্দরভাবে প্রত্যেকটি স্কুলকে সাহায্য করছে। অনূর্ধ্ব-১৭ এর সময় স্কুল ক্রিকেটের একটা টুর্নামেন্ট বাইরে খেলতে যাওয়ার একটা সুযোগ হয়েছিল। বিসিবিকে ধন্যবাদ যে ওই সময় আমাকে ওই সুযোগটা দিয়েছিল। তো ওই সময় একটা টুরই হয়েছিল কেরালাতে, দেশের বাইরে। ওই টুর্নামেন্টটা আমার মনে হয় যে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার ক্যারিয়ারের জন্য কারণ ওই টুর্নামেন্টে আমি বেস্ট প্লেয়ার ছিলাম।’

টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টটাকে যত বড়ভাবে করা যায় এবং যত সুন্দরভাবে করা যায় এবং প্লেয়ারদেরকে পর্যাপ্ত সুবিধাটা যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে আমার মনে হয় যে প্লেয়াররা আরও ভালোভাবে এখানে খেলতে আসবে, আগ্রহের সঙ্গে আসবে। অনেকদিন পর স্কুল ক্রিকেট নিয়ে কথা বললাম এবং আমারও অতীতের কথা মনে পড়ল। যারা স্টুডেন্ট আছে তারা এখানে ভালো পারফর্ম করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ টিমে খেলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেখেন আমরা যখন বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে খেলছি, আমরা সাকিব ভাইকে দেখেছি, তামিম ভাইকে দেখেছি, মুশফিক ভাইকে দেখেছি। তো এখন যদি ওইভাবে আমি তুলনা করি অবশ্যই ওই জায়গাটাতে আমরা একটু স্ট্রাগল করছি। কিন্তু আস্তে আস্তে আমার মনে হয় যে এই ফাঁকা জায়গা পূরণ হবে।’

জাতীয় ক্রিকেটার তাওহিদ হৃদয় শুরুতে বললেন, ‘সত্যি কথা বলতে, স্কুল ক্রিকেটের বিষয়ে যদি কিছু বলতে চাই একটু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি।’ সেই আবেগের পেছনের কারণও তুলে ধরলেন তিনি। ‘আমার জীবনের শুরুটাই হয়েছে এই স্কুল ক্রিকেট দিয়ে। আমি বগুড়া পুলিশ লাইন্স থেকে পড়াশোনা করেছি। স্কুল ক্রিকেটের অনেক স্মৃতি আছে এখনও, সেগুলো মনে পড়ে। স্কুল ক্রিকেট এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে অনেক ক্রিকেটার উঠে এসে অনেক জায়গায় অংশ নিয়েছে। এমনকি আমি চার বছর খেলেছি ,আমার বগুড়া পুলিশ লাইন্স বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় স্কুল ক্রিকেট ফলো করি এবং আমি যদি ভুল না করে থাকি, গত দ্ইু-এক বছর টসের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারিত হয়েছে, কারণ বৃষ্টিতে কারণে খেলা হয়নি। এটা এমন একটা টুর্নামেন্ট, যে এখান থেকে অনেক ক্রিকেটার উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে উঠে আসবে। আমি বা আমরা চাই যে, এই টুর্নামেন্টটা যেন বৃষ্টির মৌসুমে না হয়ে একটু আগে করা যেত. তাহলে ক্রিকেটাররা সব ম্যাচ খেলতে পারত।’ প্রাইম ব্যাংক পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. নাজিম এ. চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, স্কুল ক্রিকেট খেলা প্রায় দশ বারোজন ক্রিকেটার আছেন যারা সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের। দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক যে এগিয়ে চলা সেখানে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যুক্ত থাকতে পেরে প্রাইম ব্যাংক আনন্দিত এবং গর্বিত। ১০ বছর ধরেই স্কুল ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক প্রাইম ব্যাংক। এটা আমাদের জন্য একটা আবেগের জায়গাও বটে। বিসিবিকে সাধুবাদ এই টুর্নামেন্টটা সফলভাবে পরিচালনার জন্য।’ ২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে বিভিন্ন সময়ে অংশ নিয়েছে ৩,৫০৭ স্কুল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত