ঢাকা রোববার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজে বাংলাদেশের সমতা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজে বাংলাদেশের সমতা

সিরিজ জয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ, কিন্তু শেষ ম্যাচে এসে সেই সম্ভাবনা ভেসে গেল ব্যাটিং ব্যর্থতা আর প্রতিপক্ষের দারুণ প্রত্যাবর্তনে! স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পর্যাপ্ত পুঁজি জমা করতে পারেননি টাইগার ব্যাটাররা। ফলে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ১৫ ওভারে ১০৩ রান। হাতে ১০ উইকেট। কোনোভাবেই এটাকে বড় বলার সুযোগ নেই। এই লক্ষ্যে সফরকারিদের শুরুটা হয়েছিল বাজে। ৩৩ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৪ উইকেট। তবে বাকি পথটা খুব সহজেই পাড়ি দিয়েছে কিউইরা। আগের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় এই ম্যাচটি হয়ে ওঠে কার্যত ফাইনাল। গতকাল শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টির প্রভাবে কমে আসা ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। তার পথ ধরে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ!

মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চরম বিপর্যয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে ব্যাগ পেতে হয়নি নিউজিল্যান্ডকে। কিউইদের এই জয়ের মূল নায়ক বেভান জ্যাকব, যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুলে অপরাজিত ফিফটি করে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। বোলারদের লড়াই করার মতো বড় লক্ষ্য না থাকলেও বল হাতে শরিফুল ইসলামের তোপে শুরুটা দারুণ করেছিল স্বাগতিকরা। কিউইদের টপ অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে কাতেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে ফিরিয়ে দেন এই পেসার। এরপর ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রান করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করা টিম রবিনসনকেও সরাসরি বোল্ড করেন শরিফুল। ২৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর কিউই শিবিরে আরও এক ধাক্কা দেন শেখ মেহেদী হাসান।

নিক কেলিকে বোল্ড করে ৩৩ রানেই সফরকারীদের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ সম্ভাবনা জাগায় বাংলাদেশ।

তবে শুরুর এই চাপ দারুণভাবে সামাল দেন বেভব জ্যাকব ও ডিন ফক্সক্রাফট। একপ্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন জ্যাকব। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। অপর প্রান্তে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ফক্সক্রাফট খেলেন ১৫ রানের কার্যকর ইনিংস। এই জুটির দৃঢ়তায় আর কোনো উইকেট না হারিয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ১৯ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন শরিফুল।

এর আগে এদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও নির্ধারিত সময়েই টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে নামেন ব্যাটাররা। দলীয় ২১ রানে জেইডন লেনক্সের শিকার হয়ে ১৬ রান করে প্রথম বিদায় নেন সাইফ হাসান। স্কোরবোর্ডে আর ১৪ রান যোগ হতেই নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান (৬ রান)। বড় ধাক্কাটা আসে ঠিক পরের বলেই; স্মিথের বলে ইশ সোধির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছে, তখন বেলা ২টা ৩৭ মিনিটে ৬.৪ ওভার খেলা হওয়ার পর (দলীয় ৫০ রান) বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৫ ওভারে নির্ধারণ করা হয়।

বৃষ্টি নামার আগে ২ অধিনায়ক লিটন দাস ২৫ রানে এবং তাওহিদ হৃদয় ২ রানে অপরাজিত থেকে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও, সামগ্রিক ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত মাঝারি পুঁজি নিয়েই ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ। খেলতে পারেনি পুরো ১৫ ওভারও।

বৃষ্টির আর এক রান যোগ করে ২৬ রানে আউট হন লিটন। তবে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন তাওহিদ। ২৪ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। শামিম হোসেন (৬), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (০), রিশাদ হোসেনরা (৫) হাল ধরতে পারেননি। এলোমেলো ব্যাটিংয়ে উইকেট খুইয়েছেন। পারেননি লেজের ব্যাটাররাও।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশ ক্লার্কসন। দুই ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ১৪.২ ওভারে ১০২/১০ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, সিয়ার্স ২/১২, স্মিথ ২/১৪)

নিউজিল্যান্ড : ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, ফক্সক্রফট ১৫*; শরীফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)

ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডি/এল)

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ ড্র

ম্যাচসেরা : বেভন জ্যাকবস

সিরিজসেরা : তাওহিদ হৃদয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত