
ম্যাচ শুরু থেকে তখনও ঘণ্টা খানেক বাকি। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের পাঁচ নম্বর ফটকের বাইরে দেখা গেল দর্শদের লম্বা লাইন। ম্যাচ শুরুর পর গ্যালারিতে ক্রমেই বাড়তে থাকল দর্শক। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটা দাঁড়াল প্রায় ২০ হাজারে। হইহুল্লোড়ে তারা উজ্জীবিত করল বাংলাদেশ দলকে। এত দর্শকের উপস্থিতিতে খুবই খুশি বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। শেষ পর্যন্ত যদিও দর্শকদের স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। বাংলাদেশ দল যে হেরে গেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে! অধিনায়কও কথা দিয়েছেন, পরেরবার দর্শকের ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন তারা।
গতকাল শনিবার মিরপুরে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুরুর সময় ছিল দুপুর ২টায়। সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকলেও দুপুরের দিকে কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ইনিংসের সপ্তম ওভারে নামে বৃষ্টিও। ছাদবিহীন গ্যালারি থেকে দর্শকেরা আশ্রয় নেয় ভেতরে। তুমুল বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হয় প্রায় দুই ঘণ্টা পর। ততক্ষণে রোদ উঠে যায় আকাশে। দর্শকেরা তখনও ছিলেন মাঠে। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হয়েছিল এই মাঠেই। তীব্র রোদ আর গরমে এত বেশি দর্শক তখন ছিল না। চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডেতে তো গ্যালারি ছিল প্রায় ফাঁকা। সেখানে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে যদিও দর্শক ছিল বেশ। সাগরিকায় দ্বিতীয় ম্যাচ ভেস্তে যায় বৃষ্টির কারণে। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও খুব বেশি দর্শক ছিল না মিরপুরে।
মিরপুরে শেষ ম্যাচে ভরা গ্যালারির সামনে খেলতে পারল বাংলাদেশ। হোম অব ক্রিকেটে এত দর্শক বেশ কিছুদিন পর দেখা গেল। বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে সঞ্চালকের সঙ্গে ইংরেজিতে কথোপকথন পর্ব শেষে লিটন বাংলায় কৃতজ্ঞতা জানালেন দর্শকদের প্রতি। ‘অনেকদিন পর ভালো লাগছে, মাঠটা অনেকৃ আপনারা এসেছেন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করি পরেরবার যখন আসবেন, সাপোর্ট করবেন আমাদেরকে, আমরা আপনাদেরকে হাসিমুখে বাসায় বিদায় দিতে পারব। ধন্যবাদ আবারও।’
পরে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বললেন, ঘরের মাঠে দর্শক থাকলে বাড়তি প্রেরণা পান তারা। ‘খুবই ভালো (এত দর্শকের সামনে খেলা)। আমি সত্যি কথা খুবই খুশি। আমার মনে হয়েছে, আবার আমাদের দর্শকরা আমাদেরকে সমর্থন করছে। ঘরের মাঠে দর্শকরা যদি সমর্থন করে, তখন একটা আলাদা সুবিধা থাকেই। আশা করব, দর্শকরা আবার আসবে মাঠে, আমাদের খেলা দেখতে। কারণ দর্শক হচ্ছে প্রাণ, তারা যদি আমাদের সমর্থন করে তাহলে আমাদের জন্য খেলাটা সহজ হয়ে যায় অনেকটা।’ সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলিও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন বাংলাদেশের দর্শকদের। ‘হ্যাঁ, দারুণ ছিল। প্রচুর হইহুল্লোড় ছিল। তারা এই দলটাকে ভালোবাসে, তাদের হইচই শুনেই সেটা বোঝা যায়। আমার মনে হয়, বৃষ্টি হয়তো তাদের কিছুটা ভড়কে দিয়েছিল, কিন্তু মাঠ শুকানোর পরই তারা সবাই ফিরে আসে। বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ।’ তিনি বলেন, ‘এখানে সময়টা খুব উপভোগ করেছি আমরা। তারা খুবই আন্তরিক। প্রায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে সফর শেষ করাটা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। ম্যাচ জিতে তাদের আনন্দটা নষ্ট করার জন্য দুঃখিত। তবে বোঝাই যাচ্ছে, তারা ক্রিকেটকে কতটা ভালোবাসে। আশা করি, তারা বিনোদন পেয়েছে।’