ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শুরুটা হতাশায় মোড়ানো শেষটা রাঙাল বাংলাদেশ

শুরুটা হতাশায় মোড়ানো শেষটা রাঙাল বাংলাদেশ

বিশ্বেও ক্রীড়ামোদীদের চোখ যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ছিল বুলাওয়ায়োর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। কারণ, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’, যদিও এবারের জিম্বাবুয়ে সফর যেমন বাংলাদেশের জন্য ব্যর্থ সফর হয়েই থাকবে। একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারার পর প্রাপ্তি আর বাকি থাকেই বা কী! তার পরও সুযোগ ছিল, শেষ ম্যাচ জিতে খানিকটা স্বস্তিতে সফর শেষ করার। অবশেষে সেই স্বস্তি মিলেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়ন্টি ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। হাতে ছিল ছয় উইকেট। এমন সমীকরণ খুব কম দলই হারায়! কিন্তু আজ বুলাওয়েতে সেই সহজ হিসাবও মুহূর্তেই রোমাঞ্চে ভরে ওঠে। ব্র্যাড ইভান্সের টানা দুই আঘাতে ম্যাচে ফেরে জিম্বাবুয়ে। এরপর এলবিডব্লিউয়ের শঙ্কা, আম্পায়ারের ডেড বলের সিদ্ধান্ত আর শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদী হাসানের বাউন্ডারি-সব মিলিয়ে নাটকীয় সমাপ্তির মধ্যেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ!

এর আগে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই শেখ মেহেদী হাসানের আঘাতে ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে হারায় স্বাগতিকরা। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মেয়ার্স ৭১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন।

বেনেট ৪৭ রান করে বিদায় নিলেও মেয়ার্স একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৫৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংসে সাতটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে সাইফউদ্দিন, রিশাদ ও সাকলাইনদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস! জবাব দিতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লেতে রানও আসে ধীরগতিতে। তবে এরপর ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথমে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে, পরে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে কার্যকর দুটি জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যান তিনি।

ইমন ও হৃদয় দুজনই ২৪ রান করে ফিরলেও তানজিদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। ইয়াসির আলীও করেন ১০ রান। ম্যাচ তখন প্রায় বাংলাদেশের মুঠোয়। কিন্তু শেষ ওভারে নতুন মোড় নেয় লড়াই। প্রথম বলে এক রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন ব্র্যাড ইভান্স। পরের ডেলিভারিতে শেখ মেহেদী এলবিডব্লিউ হতে পারতেন, কিন্তু বল ছাড়ার সময় ফিল্ডারের নড়াচড়ার কারণে আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল ঘোষণা করেন। জীবন পেয়ে আর সুযোগ নষ্ট করেননি মেহেদী।

পরের বলেই চার মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে হারের পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয়। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স, তানজিদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ মুহূর্তে মেহেদীর ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং-এই তিনের সমন্বয়েই আসে টাইগারদের এই স্মরণীয় জয়!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত