
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সাফল্যের গল্প লিখেছেন অনেকবার। তবে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে মোহাম্মদ রুবেল যে গল্প লিখছেন, সেটি যেন একটু আলাদা! ম্যাচের পর ম্যাচ বল হাতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন এই অফস্পিনার। সর্বশেষ নর্দান টেরিটরির বিপক্ষে ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, ছয় ম্যাচে নিজের উইকেটসংখ্যা নিয়ে গেছেন ২০-তে। তার ঘূর্ণির ওপর ভর করেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ এইচপি। গতকাল শুক্রবার ডারউইনের মারারা গ্রাউন্ডে নর্দান টেরিটরিকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশ। আর সেই চাপকে প্রতিপক্ষের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেন রুবেল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে হর্ষতিক বিমব্রালকে ফিরিয়ে শুরু। পরের ওভারে জাগা কোদুরুকে এলবিডব্লিউ করে নিজের দ্বিতীয় শিকার ধরেন তিনি। এরপর ডাউটজি হুগেনবোজেমকে বোল্ড করে নর্দান টেরিটরিকে মাত্র ৩৪ রানেই তিন উইকেটে পরিণত করেন রুবেল।
সেখানেই থামেননি। পরে ম্যাট হ্যামন্ড ও ওয়েস আগারকে সাজঘরে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। চার ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট-রুবেলের এমন বোলিংয়েই ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে নর্দান টেরিটরি। তবে রুবেলের এই পারফরম্যান্সকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যাচ্ছে না। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে তার বোলিং স্পেল দেখলেই বরং ধারাবাহিকতার ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে ১৮ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ ওভারে ২৫ রান দিয়ে শিকার ৩। তৃতীয় ম্যাচে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট। চতুর্থ ম্যাচে ৩০ রানে ৩ উইকেট। পঞ্চম ম্যাচে কিছুটা নিষ্প্রভ থেকে ৩৯ রানে নেন ১ উইকেট। আর ষষ্ঠ ম্যাচে এসে আবারও ভয়ংকর রুবেল-২১ রানে ৫ উইকেট। ছয় ম্যাচে ২০ উইকেট। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন বোলারের এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত বোলারদের তালিকায় সবার ওপরে রুবেল। আরও বড় ব্যাপার, প্রতিটি ম্যাচেই কোনো না কোনোভাবে দলের বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি! প্রথমবার দেশের বাইরে খেলতে গিয়েই নিজেকে চেনালেন ৩০ বছর বয়সী এই স্পিনার। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য স্বস্তিতে ছিল না বাংলাদেশ। ২০ রানে আরিফুল ইসলাম এবং ৪১ রানে হাবিবুর রহমান সোহান ফিরে যাওয়ার পর চাপ বাড়ে। শামীম হোসেনও ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের জয়ের পথ তৈরি করেন সাব্বির রহমান। মাত্র তিন রানের জন্য ফিফটি হাতছাড়া করে ৩৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে ইরফান শুক্কুরের অপরাজিত ১৭, সামিউন বাসীরের ১৪, শামীমের ১১ এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইনের অপরাজিত ৬ রানে ১০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জয় আসে ৩ উইকেটে। এই জয় বাংলাদেশকে শুধু দুই পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে সেমিফাইনালের নিশ্চয়তাও। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ইরফান শুক্কুরের দল। টুর্নামেন্টে প্রথম দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ এইচপি। এই সাফল্যের পেছনে দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স থাকলেও রুবেলের গল্পটি আলাদা করে বলতেই হয়।
এক ম্যাচে ভালো করা নয়, টানা ছয় ম্যাচে পারফর্ম করে তিনি দেখিয়েছেন ধারাবাহিকতার মূল্য। কখনও চার উইকেট, কখনও তিন, কখনও পাঁচণ্ডপ্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠেছেন এই স্পিনার! ক্রিকেটে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য আর নিরন্তর পরিশ্রম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে রুবেলের ছয় ম্যাচের ২০ উইকেট যেন সেই পুরোনো কথাটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে-ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না!