ঢাকা রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মাঠে ফিরেই ছন্দের খোঁজে জামাল-মোরসালিনরা

মাঠে ফিরেই ছন্দের খোঁজে জামাল-মোরসালিনরা

বল পায়ে নেওয়ার আগে শরীরকে প্রস্তুত করাই এখন বাংলাদেশের ফুটবলারদের প্রথম কাজ। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরেছেন খেলোয়াড়েরা। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে থাকা এই ফুটবলারদের হুট করে কঠিন অনুশীলনে না নিয়ে ধাপে ধাপে ম্যাচের ধকল নেওয়ার উপযোগী করে তুলছেন নতুন কোচ টমাস ডুলি। আসিয়ান কাপের আগে হাতে সময় চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। এর মধ্যেই নতুন কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সবচেয়ে বড় কথা ম্যাচের ছন্দে ফেরার কাজটি করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই ক্যাম্পের শুরুতেই বল নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার চেয়ে ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ডুলি।

পরশু জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলেও মাঠের অনুশীলন শুরু হয়েছে গত শুক্রবার। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার অনুশীলন মাঠে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করেছেন ডুলি ও তার কোচিং স্টাফ। দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকায় অনুশীলনের তীব্রতা নির্ধারণেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে তাদের। প্রথম ধাপে শরীরকে চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে অনুশীলনের মাত্রা। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই ফিটনেস সংকটের পেছনে বড় কারণ ঘরোয়া ফুটবলের অনিশ্চয়তা। নতুন মৌসুম শুরুর কথা ছিল ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে। কিন্তু ক্লাবগুলোর প্রস্তুতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি বাতিল করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ফলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বড় একটি অংশ নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সমস্যাটা এখানেই শেষ নয়। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শুরুর কথা থাকলেও তখন জাতীয় দল থাকবে ইন্দোনেশিয়ায়। আসিয়ান কাপের আগে নিয়মিত লিগ ম্যাচ খেলে নিজেদের ম্যাচ ফিটনেস বাড়ানোর সুযোগও থাকছে না জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সামনে। এই বাস্তবতায় শুধু অনুশীলন যথেষ্ট কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ মনে করেন, প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করা গেলে ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। বিশেষ করে অনুশীলন শুরু করে দেওয়া ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়েরা দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক ছন্দে ফিরতে পারবেন। তপু বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি আমরা ম্যাচ ফিটনেসটা নিয়ে আসতে পারব। আমরা যদি কিছু ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে পারি; বিশেষ করে আমাদের যে ক্লাবগুলো আছে, যারা এখন স্টার্ট করে দিয়েছে, তাদের সঙ্গে যদি আমরা ট্রেনিং ক্যাম্প চলাকালে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে থাকি, তাহলে খুবই ভালো হবে।’

জাতীয় দলের জন্য তাই এখন অনুশীলনের প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। হাতে থাকা চার-পাঁচ সপ্তাহে খেলোয়াড়দের শুধু দৌড়, ফিটনেস ড্রিল কিংবা বল পাসিংয়ে অভ্যস্ত করলেই হবে না; ম্যাচের গতি, চাপ ও শারীরিক দ্বৈরথের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে। নতুন কোচ ডুলির সামনে সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। তপুও মনে করছেন, ক্যাম্পের প্রথম সপ্তাহটা সহজ হবে না। দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে, ‘অনেক দিন ধরে আমরা ফুটবলের বাইরে।’ তাই ক্যাম্পের প্রতিটি সেশন সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চান জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কৌশলগত প্রস্তুতির বিষয়টিও। নতুন কোচের অধীনে দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। খেলোয়াড়দের তাঁর পরিকল্পনা বোঝাতে হবে, মাঠে সেটি প্রয়োগের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। একই সময়ে শারীরিকভাবে সবাইকে প্রায় একই জায়গায় নিয়ে আসাও জরুরি। সময় খুব বেশি নেই। আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। তিন দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। এরপর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। তিন দলই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচেই শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের গতি, শারীরিক শক্তি ও চাপ সামলানোর পরীক্ষায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে।

সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি তাই কৌশল দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তার ভিত্তি হবে ফিটনেস। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে ফুটবলারদের এখন শুধু বলের সঙ্গে সম্পর্কটা নতুন করে তৈরি করলেই হবে না, ম্যাচের ৯০ মিনিটের সঙ্গে শরীরকেও আবার পরিচিত করতে হবে। ডুলির প্রথম দিনের অনুশীলনের বার্তাটা তাই পরিষ্কার-এখনই ফলের দিকে তাকানোর সময় নয়, আগে শরীরকে ম্যাচের জন্য তৈরি করতে হবে। কারণ আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের সামনে যে তিনটি ম্যাচ অপেক্ষা করছে, সেখানে সামান্য জড়তাও বড় মূল্য দিতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত