ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

টি-টোয়েন্টিতে এবার কি গল্প বদলাবেন শান্ত

টি-টোয়েন্টিতে এবার কি গল্প বদলাবেন শান্ত

একসময় ছিলেন অধিনায়ক। এখন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি একাদশে জায়গা ফেরাতেই লড়াই করতে হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তকে! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার শেষ ম্যাচটি ছিল গত বছরের মে মাসে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এরপর দীর্ঘ ১৬ মাস এই সংস্করণে জাতীয় দলের বাইরে। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে এবার-এশিয়ান গেমস দিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার!

ফেরাটা অবশ্য নিছক প্রত্যাবর্তন নয়, শান্তর জন্য এটি নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার মঞ্চও। কারণ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তি দেয় না। ২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৫০ ম্যাচে তার রান ৯৮৭, স্ট্রাইকরেট ১০৯.০৬। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে যে ধরনের দ্রুতগতির ব্যাটিং এখন প্রত্যাশিত, সেখানে শান্তর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই। ২০২৫ সালে লিটন দাস অধিনায়ক হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি দল থেকে জায়গা হারান তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেই গল্পের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের শান্তকে মেলানো কঠিন। ২০২৬ বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন করার পথে ২৯.৫৮ গড় ও ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইকরেটে ৩৫৫ রান করেছিলেন তিনি। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ছিল একটি ফিফটিও। টি-টোয়েন্টিতে রান করার সামর্থ্য যে তার নেই, সেটি বলার সুযোগ নেই। প্রশ্নটা বরং-ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই শান্তকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা দেখা যাবে?

নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অবশ্য আলাদা কোনো উত্তেজক ঘোষণা দেননি শান্ত। বরং দলের প্রয়োজন মেটানোর কথাই সামনে রেখেছেন তিনি, 'অনেক দিন পরে এই সংস্করণে আবার ফিরে আসা অবশ্যই ভাল লাগার একটা বিষয়। আমি বিশ্বাস করি যে এই সংস্করণে দলের যে চাহিদা থাকবে, সেই অনুযায়ী পারফর্ম করার চেষ্টা করব। এশিয়ান গেমস অনেক বড় একটা প্ল্যাটফর্ম আমি মনে করি।' এই এশিয়ান গেমসেই বাংলাদেশের সামনে অবশ্য শুধু ভালো করার লক্ষ্য নয়, পুরোনো সাফল্য ফিরিয়ে আনার সুযোগও আছে। ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান গেমস স্বর্ণ এসেছিল ২০১০ সালে, আফগানিস্তানকে হারিয়ে। ১৬ বছর পর লিটন-শান্তদের সামনে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সুযোগ। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন শান্ত, 'ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নাই। সত্যি বলতে আমার মতে দল হিসেবে ভালো ফল করাই প্রধান লক্ষ্য থাকবে। অবশ্যই চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সোনা জেতা। ভালো ক্রিকেট খেলে যদি আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, এটাও সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির জায়গা হবে।' এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটকে তাই হালকাভাবে দেখছেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত