ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আবুধাবি টেস্ট

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আবুধাবি টেস্ট

আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ব্যাটে এবং বলে দুর্দান্ত এক দিন পার করল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথমে বল হাতে হ্যাটট্রিকের উল্লাস, তারপর ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার দীর্ঘশ্বাস। আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল প্রাপ্তি আর আক্ষেপের মিশেলে সাজানো। দিনের শুরুতেই হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে আফগানিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছিল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের দেড় শতাধিক রানের জুটি সেই পথ আরও মসৃণ করেছিল। কিন্তু শেষ বিকেলে মাত্র পাঁচ ওভারের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনও বাংলাদেশের হাতেই। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে শান্তর দল। প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের লিডসহ আফগানিস্তানের চেয়ে তাদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ৩২৯ রান। হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট। গতকাল রোববার তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেয় বাংলাদেশ। আগের দিনের অসমাপ্ত লড়াইয়ে বাকি থাকা আফগানিস্তানের ছয় উইকেট তুলে নিতে বাংলাদেশের বোলারদের সময় লাগে মাত্র ৬১ বল। ইবাদত হোসেনের হাত ধরে শুরু, এরপর হাসান মাহমুদের আগুনঝরা বোলিং। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানেই থামে আফগানদের প্রথম ইনিংস। হাসানের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে বিশেষ স্মরণীয়। হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি গড়া তৃতীয় বোলার হন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। পাঁচ উইকেটও পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। পাশাপাশি মাত্র ১৭ টেস্টে ৫০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম এই মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। অন্য প্রান্তে ইবাদতও কম যাননি। মোহাম্মদ সেলিম সাফিকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। শেষ উইকেট শিকারের পর তার উদযাপনেও ছিল ভিন্নতা-কোলে শিশু দোলানোর ভঙ্গিতে আনন্দ প্রকাশ করেন এই পেসার! বোলারদের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা বাংলাদেশ দ্রুতই হারায় গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট। সাদমান ইসলাম ১৩, তানজিদ হাসান তামিম ৩১ এবং মুমিনুল হক ৭ রান করে ফিরে যান। ১৫ ওভারে ৫৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। সেই চাপ সামলানোর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। শুরুতে সতর্ক, পরে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে আফগান বোলারদের হতাশ করেন তাঁরা। চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দুজনের ব্যাটেই আসে ৮০ পেরোনো ইনিংস। কিন্তু সেঞ্চুরির অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি কারও।

মুশফিকের বিদায় ঘটে ৮১ রানে। ১৫তম টেস্ট সেঞ্চুরির হাতছানি থাকলেও ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে সেই স্বপ্ন থেমে যায়। অন্যদিকে শান্তর আক্ষেপটা আরও বেশি। ৮২ রানে থামতে হয়েছে তাঁকে। ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৮ রান দূরে ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কায়েস আহমেদের লেগস্পিনে ভেতরে ঢোকা বলে কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে নিজের স্টাম্প হারান শান্ত। বলের গতিপথ বুঝে ওঠার আগেই বেল পড়ে যায়। সাজঘরে ফেরার সময় তার মুখে ছিল স্পষ্ট হতাশা। ডাগআউটেও সেই আক্ষেপ ধরা পড়ে। কারণ, শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার সুযোগও ছিল এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের সামনে।

তবে শান্তর ইনিংসটি সহজ ছিল না। ব্যাটিংয়ের শুরুতে কয়েকবার জীবন পেয়েছেন তিনি। কখনো রিভিউতে বেঁচেছেন, কখনো ক্যাচের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আফগান ফিল্ডাররা। একবার আম্পায়ারের আঙুলও উঠেছিল, কিন্তু রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। সেই সব বাধা পেরিয়ে যখন সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, তখনই থামতে হলো তাঁকে। শান্ত-মুশফিকের বিদায়ের পর শেষ বিকেলে আবারও ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। পাঁচ ওভারের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দল। দিনের শেষ দিকে হাসান মাহমুদকে এলবিডব্লু করে ফেরায় আফগানিস্তান। দিন শেষে লিটন দাস ৫ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত রয়েছেন।

দিনের শেষ দৃশ্যটি বাংলাদেশের জন্য পুরোপুরি স্বস্তির না হলেও বড় লিড তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে আটকে রাখা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৩ রান পর্যন্ত পৌঁছানো-সব মিলিয়ে জয়ের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এখন প্রশ্ন, চতুর্থ দিনে সেই ভিত কতটা মজবুত করতে পারে শান্তর দল। হাতে থাকা চার উইকেট কাজে লাগিয়ে লিড আরও বড় করতে পারলে আফগানিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া সম্ভব। দিনের শুরুতে হাসানের হ্যাটট্রিক যে বার্তা দিয়েছিল, বাংলাদেশ কি চতুর্থ দিনেও সেই দাপট ধরে রাখতে পারবে?

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত