
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ ড্র করে আত্মবিশ্বাসের নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এবার ঘরের মাঠে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছে ক্যারিবীয়রা। অতীতের পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার অবস্থান।
দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে নয়। এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্টে মুখোমুখি হয়ে পাঁচটিতে জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ১৫টিতে। ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। ১১টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে আটটি, বাংলাদেশ জিতেছে দুটি। বাকি একটি সিরিজ শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে। বাংলাদেশের দুটি সিরিজ জয়ই এসেছে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে। সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান বেশ ভালোভাবে গুছিয়ে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করে বড় আত্মবিশ্বাস পেয়েছে দল। বর্তমানে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। অন্যদিকে আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এই সিরিজ অনেকটা মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। চলমান চক্রে ক্যারিবীয়দের শেষ দুটি টেস্টও এই সফরেই।
বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু সিরিজ জয়ের সুযোগ নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার হাতছানিও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানো জরুরি। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং পেস-স্পিন দুই বিভাগেই কার্যকর পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে ক্যারিবীয়দের চ্যালেঞ্জ সামলানো সম্ভব! অন্যদিকে বাংলাদেশ সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও এসেছে পরিবর্তন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে কিমো পল সরে দাঁড়ানোয় তার জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার শামার স্প্রিঙ্গারকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ওয়ানডে ও ১২টি টি-টোয়েন্টি খেললেও এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি তার। এ ছাড়া ফাস্ট বোলার আলজারি জোসেফকে ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার কারণে দলে রাখা হয়নি। বিশ্রামে আছেন সাদা বলের অধিনায়ক শাই হোপও। ফলে অভিজ্ঞতা ও শক্তির দিক থেকে ক্যারিবীয় দলে কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে কেমার রোচ, শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের মতো পেসারদের নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অধিনায়ক রস্টন চেজের নেতৃত্বে দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। পাশাপাশি প্রথমবার টেস্ট দলে ডাক পাওয়া তরুণ ব্যাটার কেভিন উইকহ্যামও নিজেকে প্রমাণের সুযোগ খুঁজবেন। সফরের সূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ঢাকায় তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট।