ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দ্রুততম মানব-মানবী ইমরানুর-শিরিনই

দ্রুততম মানব-মানবী ইমরানুর-শিরিনই

দৌড়ের ট্র্যাকে গতি আর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন চেনা দুই মুখই। প্রতিদ্বন্দ্বীরা চেষ্টা করলেন, চ্যালেঞ্জও ছুড়লেন; কিন্তু দেশের দ্রুততম মানব ও মানবীর মুকুট নিজেদের মাথা থেকে সরতে দিলেন না ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন এই দুই স্প্রিন্টার! গতকাল শুক্রবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই পুরুষ ও নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরার মুকুট উঠেছে ইমরানুর ও শিরিনের মাথায়।

পুরুষদের ১০০ মিটারে শুরু থেকেই নিজের গতির জানান দেন ইমরানুর। শেষ পর্যন্ত ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন তিনি। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ালেও শেষ পর্যন্ত পেছনেই থাকতে হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের। ১০.৬৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ ইসমাইল। আর ১০.৭৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় স্থান পেয়েছেন তারেক রহমান।

নারীদের ১০০ মিটারেও গল্পটা অনেকটা একই। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে দৌড় শেষ করেন শিরিন আক্তার। তাকে চ্যালেঞ্জ জানালেও সাফল্য পাননি শরীফা খাতুন ও সুমাইয়া দেওয়ান। ১২.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শরীফা। আর ১২.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সুমাইয়াকে। বিশেষ করে শিরিনের সঙ্গে সুমাইয়ার লড়াইয়ে ছিল বাড়তি নজর। গত জাতীয় অ্যাথলেটিকসে শিরিনকে হারিয়ে দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেছিলেন সুমাইয়া। এবার সেই মুকুট ফিরে পাওয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু শিরিনের গতির কাছে আবারও হার মানতে হয়েছে তাকে। ফলে দ্রুততম মানবীর খেতাব ধরে রাখলেন অভিজ্ঞ এই স্প্রিন্টার।

আরাফাত রহমান কোকোর নামে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। তিন দিনের এই আসরে অংশ নিচ্ছেন ৫৭টি সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট। পুরুষদের ২২টি ও নারীদের ১৮টি মিলিয়ে মোট ৪০টি ইভেন্টে হবে পদকের লড়াই। প্রতিযোগিতার শুরুতেই ১০০ মিটারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে ইমরানুর ও শিরিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, দেশের স্প্রিন্টিংয়ে এখনও তাদের চ্যালেঞ্জ জানানোর কাজটা সহজ নয়। তবে তিন দিনের এই আসরে অন্য ইভেন্টগুলোতে নতুন কারা নিজেদের মেলে ধরেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা!

আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১০০ মিটার ইভেন্টে পদকজয়ীদের তিনি পদক পরিয়ে দিয়েছেন। ১৮তমবার সেরা হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে শিরিন বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, অসাধারণ ছিল। প্রতিটি সফলতা নিজের একার হয় না। অনেক মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এর পেছনে কাজ করে। আমার কোচ আব্দুল্লাহেল কাফি, তাঁর পরিবার, আমার ছোট ভাই ও তার পরিবার, নিজের পরিবার এবং স্বামী লিংকনসহ সবাই সব সময় পাশে ছিলেন।' শিরিন যোগ করেন, 'কতবার চ্যাম্পিয়ন হব, তা নির্দিষ্ট করিনি। তবে সামনে নিজের টাইমিংগুলো সেরা করার ইচ্ছা আছে। বাকিটা আমার কোচ বলতে পারবেন, আমাকে নিয়ে তাঁর কী পরিকল্পনা রয়েছে।' সামনে এসএ গেমস। সেখানে ভালো করতে হলে নিজের টাইমিং আরও কমাতে হবে, সেটি বুঝতে পারছেন শিরিন। এ নিয়ে কাজও করছেন তিনি। তাঁর আশা, পরিকল্পিত অনুশীলনের মাধ্যমে সামনে আরও ভালো সময় উপহার দিতে পারবেন। এবারের প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও তাঁর হাত থেকে পদক পাওয়া শিরিনের কাছে ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়ায় অ্যাথলেটরা উৎসাহিত হচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। শিরিন বলেন, 'এটা অসাধারণ অনুভূতি। এতে বোঝা যায়, সরকার খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরাও উৎসাহিত হচ্ছি। পুরো বাংলাদেশ দেখছে কে দ্রুততম মানবী হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান এসে আমাদের পুরস্কৃত করছেন— বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ লেগেছে।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত