অনলাইন সংস্করণ
১৯:৫৪, ০৯ জুন, ২০২৬
দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৫ সালে প্রথমবার অজিদের হারানোর পর আর জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা। অবশেষে মিরপুরে চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনের দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে স্বাগতিকরা।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর মাঠে খেলা গড়াতে না পারায় ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডিএল) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া শুরুর প্রথম বলেই সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান মার্নাস ল্যাবুশেনকে। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে সফরকারীরা।
জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা ভেঙে দেন নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন। ইংলিস ২৫ বলে ১৯ রান করে আউট হন। পরে মোসাদ্দেক নিজের দ্বিতীয় ওভারেই কনোলিকে বোল্ড করেন। ৫০ বলে ৩৫ রান করা এই ব্যাটারের পর ম্যাট রেনশকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। বল হাতে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ রানা। আগুনঝরা বোলিংয়ে ৪১ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। ইংলিসের পাশাপাশি অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও হ্যাভিয়ার ব্রাটলেটকে সাজঘরে ফেরান তিনি।
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরুন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকলেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি অন্যরা।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান ওপেনার সাইফ হাসান। এরপর তানজিদ হাসান তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ ৫৪ রান করে ফিরলেও শান্ত খেলেন ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।
লিটন দাস ৭ রান করে বিদায় নিলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া দলকে উদ্ধার করেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। দুজনে মিলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। হৃদয় ৩১ রান করে আউট হলেও একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন মোসাদ্দেক।
চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন তিনি। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের ঝোড়ো ইনিংস বাংলাদেশের স্কোর আরও বাড়িয়ে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট দুটি করে এবং হ্যাভিয়ার ব্রাটলেট একটি উইকেট শিকার করেন।