
প্রথমার্ধে বেশ দাপুটে খেলা দেখিয়েছে সেনেগাল। ফ্রান্সকে তেমন খুঁজেেই পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফরাসিরা। ম্যাচে লড়াই বেশি জমেছিল শেষের দিকে এসে। নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে আই গ্রুপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ফরাসিরা। জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক এমবাপে।
২০০২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এবারও প্রথমার্ধে যেভাবে ফরাসিদের কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন সাদিও মানেরা, তাতে ২০০২ এর সেই ম্যাচের স্মৃতিই উঁকি দিচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই জুজু অতিক্রম করেছে ফ্রান্স।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে একেবারেই ছন্নছাড়া ছিল ফ্রান্স। ম্যাচের প্রায় ২০ মিনিটের কাছাকাছি গিয়ে প্রথম শট নিতে পারে তারা। এর আগে একটি শট নিয়েছিল সেনেগালও। তবে কোনোটাই গোল হওয়ার মতো ছিল না।
২৫ মিনিটে কপালগুণে বেঁচে যায় ফ্রান্স। সেনেগালের ডিওফ অসাধারণ একটি থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন জ্যাকসনের দিকে। একাই এগিয়ে গিয়ে তিনি কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শট নেন।
বলটি পোস্টে লেগে গোলরক্ষক মেইনানের গায়ে প্রতিহত হয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যায় ফ্রান্স! তবে পরের কর্নার থেকে কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি সেনেগাল।
৪০ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় সেনেগাল। তবে ৩০ গজ দূর থেকে সাদিও মানের শটটি সরাসরি ফরাসি গোলরক্ষক মেইগনানের হাতে পড়ে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের মাঝখানে পাস পেয়েও বল উপরে মেরে দেন মানে। ফলে গোলশূন্যই থাকে প্রথমার্ধ।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের আভাস দেয় ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে উপামেকানোর লম্বা করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে জোরাল শট নেন দুয়ে। তবে দুয়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৫ মিনিট পর অলিসের দারুণ একটি প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন এদুয়ার্দো মেন্দি।
৫৮ মিনিটে আবারও সেনেগালের ত্রাণকর্তা রূপে হাজির হন মেন্দি। এবার বাঁপ্রান্ত দিয়ে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে শট নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। সেটাও দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন সেনেগাল গোলকিপার।
পরের মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আবারও আক্রমণে ঢুকে পড়েন ফরাসি তারকা। তাঁকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন সাদিও মানে। ফ্রান্স পেনাল্টির আবেদন জানায়। ভিএআর যাচাই করে খেলা চালিয়ে যান রেফারি। ৬৪ মিনিটে আরেকদফা সহজ সুযোগ মিস করেন এমবাপ্পে। তবে এমবাপ্পের কল্যাণেই ডেডলক ভাঙে ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটে ওলিসের দারুণ এক থ্রু পাসে কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান এমবাপ্পে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। দু মিনিট যেতে না যেতেই জালে বল জড়িয়েছিল সেনেগালও। তবে ইসমাইলা সারের গোলটি বৈধতা পায়নি অফসাইডে।
৮০ মিনিটে ডেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুমিনিট পরেই স্কোরশিটে নাম লেখান বারকোলা। যোগ করা সময়ে এমবায়ে একটি গোল ফেরত দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দিয়েছিল। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় ও ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।
আবা/এসআর/২৬