
পাবনার ঈশ্বরদীতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। দেশের পদ্মা পাড়ের এই এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এটি এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এর আগের দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
গত এক সপ্তাহ যাবৎ উপজেলায় চলমান শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে দিনমজুর, কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষেরা কাজের অভাবে পড়েছেন বিপাকে। কাজ না পেয়ে অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। গ্রাম কিংবা শহর, সব কমেছে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তারের মাঝামাঝি থেকে রাতের তাপমাত্রা প্রায় প্রতিদিনই ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামছে। উপজেলায় বাড়ছে তীব্র শীত। সেই সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে উপজেলাজুড়ে। ফলে শীতের তীব্র চরম আকার ধারণ করেছে।
গত এক সপ্তাহ যাবৎ উপজেলায় শীতের দাপট বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রিক্সা, অটো ভ্যান, সিএনজিতে যাত্রী কমে যাওয়ায় আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে ভ্যান-রিকশাচালক, কৃষি শ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিকরাও কাজ অভাবে চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই কাজ করতে পারছেন না। একইভাবে, অস্থায়ী ও কৃষি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে অনেকেই কাজ না পেয়ে বাড়িতে বেকার বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে গেটে শ্রম বিক্রি করতে আসা শ্রমিকরা বলেন, ধান রোপণের কাজ এখনো গ্রামে শুরু হয়নি। যে কারণে গ্রামে এখন তেমন কাজ নেই। এজন্য রেলগেটে শ্রম বিক্রির বাজারে কাজের সন্ধানে আসছেন শ্রমিকরা। কিন্তু শীতের কারণে মিলছে না কাজের সন্ধান। ফলে, কাজ না পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকরা। তীব্র শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। শ্রমজীবীরা কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র ভরসা।
মাটিকাটা ও বালু শ্রমিক আবুল আলী বলেন, শীতের কারণে শহর, গ্রাম কিংবা বিভিন্ন ছোট বড় বাজার এলাকায় কাজ কমে গেছে। কাজ না পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শীত এতটা বেড়েছে যে, কাজ করা তো দূরের কথা, দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্ট।