
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন (Brent T. Christensen) এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ ও পরিবেশগত দিক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরীর নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রাষ্ট্রদূতকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, টেকসই ও আধুনিক নগর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন।
মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আমরা আগ্রহী। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত আমেরিকান প্রযুক্তির আধুনিক লার্ভিসাইড বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis) ব্যবহার করে মশা নিধনে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামের অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রত্যাশা করি।
গত এক বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগর উন্নয়নে বহুমুখী ও পরিকল্পিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নগরীর সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের আওতায় সড়ক উন্নয়ন ও নতুন সড়ক নির্মাণ, রিটেইনিং ও গাইড ওয়াল নির্মাণসহ ছোট ড্রেনেজ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
মেয়র জানান, শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ৪১টি খেলার মাঠ উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এসব মাঠ নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যকর ও সামাজিক বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ২০টি নতুন বর্জ্য কনটেইনার সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক ও ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ও সক্ষমতা বাড়াবে।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, নগরীর ১৯টি খাল থেকে মাটি ও আবর্জনা উত্তোলনের ফলে আগের তুলনায় জলাবদ্ধতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সুশাসনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে সিটি গভর্ন্যান্স মূল্যায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রথম স্থান অর্জন করেছে, যা নগর পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে মেয়র জানান, নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করতে ‘আমার চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে, যা সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্কুল হেলথ কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে এইচপিভি, টাইফয়েড ও রেবিসসহ বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষা উন্নয়ন ও জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় তিনটি স্কুল অধিগ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্পোরেশনের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।