
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-বিডিআরসিএস চেয়ারম্যান ডা. হালিদা হানুম আখতার কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইএফআরসি’র সহযোগিতায় বিডিআরসিএস পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ফিল্ড হাসপাতাল, হেলথ পোস্ট, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ), শেল্টার, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জীবিকায়ন, জেন্ডার ও সুরক্ষা এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও অ্যাকাউন্টেবিলিটি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি ক্যাম্পে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পাশাপাশি তিনি উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় নির্মাণাধীন বিডিআরসিএস-এর ওয়ারহাউজও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উপ-মহাসচিব মেজর (অব.) রেজা আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক ও হেড অব অপারেশন (পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন—পিএমও) আকরাম আলী খান, হেড অব সাব-অফিস (আইএফআরসি) মানিক সাহা, পরিচালক (মিয়ানমার রিফিউজি রিলিফ অপারেশন—এমআরআরও) সেলিম আহমেদ, ইউনিট-লেভেল অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টর প্রধানগণ।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান বলেন, “আমি প্রত্যক্ষ করেছি—এখানে সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠা ও হৃদয় দিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আইএফআরসি ও অন্যান্য ডোনারদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই তাঁদের সহযোগিতার জন্য, সেই সঙ্গে সকলের ক্রমাগত সহযোগিতা আশা করছি যাতে করে আমরা এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারি।”
এর আগে, ৪ ফেব্রুয়ারি বিডিআরসিএস’র চলমান মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শনের লক্ষ্যে কক্সবাজারে পৌঁছান বিডিআরসিএস’র চেয়ারম্যান ডা. হালিদা হানুম আখতার।
একই দিনে তিনি পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন-পিএমও অফিসে সেক্টর প্রধানদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভায় যোগ দেন।
সভায় চেয়ারম্যান বলেন, “চলমান অর্থায়ন সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মানবিকতা, নিরপেক্ষতা ও স্বেচ্ছাসেবার মূলনীতি অনুসরণ করে ক্যাম্পে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে বিডিআরসিএস সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
সেই সঙ্গে তিনি কক্সবাজার ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক ও মিয়ানমার রিফিউজি রিলিফ অপারেশন-এমআরআরও-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিক মিটিংয়ে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রায় ৭ লক্ষাধিক মানুষ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এবং রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট পার্টনার সোসাইটিজের সহযোগিতায় পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন (পিএমও) পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া, ১৯৯২ সাল থেকে মিয়ানমার রিফিউজি রিলিফ অপারেশন (এমআরআরও) কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে, যা বর্তমানে ইউএনএইচসিআর-এর আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।