
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে তার বিরুদ্ধে থাকা পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
মামলাগুলো হল— বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা, আব্দুর রহমান হত্যা মামলা, মো. ইয়াছিন হত্যা মামলা, পারভেজ হত্যা মামলা এবং পুলিশের কাজে বাধা দানের মামলা।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু প্রমুখ।
আগের ৫টি মামলায় আইভী জামিন পাওয়ার কাছাকাছি সময়ে এই ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে প্রথম চারটি মামলায় বাদী নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। ফতুল্লা মডেল থানায় এই ৪টি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক এবং ভুঁইগড় ও দেলপাড়া এলাকায় গুলিতে বিভিন্ন বয়সী চারজন নিহত হন।
অপর মামলাটি সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। আইভীর বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ অভিযোগে পুলিশ গত ১২ মে এই মামলাটি করেছে। আইভীর সমর্থক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও এ মামলায় আসামি করা হয়।
সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০২৫ এর ৯ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত মিনারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। সে সময় তাকে মোট পাঁচটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখায় পুলিশ।
২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আইভীকে এই পাঁচটি মামলায় জামিন দিলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই আদেশ স্থগিত করে।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।
আইভীর অন্যতম আইনজীবী এডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, পরের পাঁচটি মামলায় জামিন হলেও আইভী জেল থেকে বের হতে পারছেন না। কারণ আগে দায়ের করা পাঁচটি মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। আশা করছি, ঈদুল ফিতরের বন্ধের আগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।