
কক্সবাজার শহরে রাখাইন সম্প্রদায়ের তিনদিনের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব শেষ হয়েছে।
রোববার (২০ এপ্রিল) এই উৎসব শেষ হয়।
রাখাইন পঞ্জিকা বা মগীসন অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শুরু হয়েছে ১৩৮৮ রাখাইন বর্ষ। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের রাখাইন পাড়ায় তৈরি করা হয়েছে ৪০টি মণ্ডপ। এসব মণ্ডপে জলকেলিতে মেতে ওঠে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা। এ উৎসব উপভোগ করতে স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও ভিড় করেন।
রাখাইন তরুণ-তরুণীরা মণ্ডপের প্যান্ডেলে অপেক্ষা করেন ড্রামভর্তি স্বচ্ছ জল নিয়ে। এসব জল একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে চলে মাঙ্গলিক শুদ্ধতার সামাজিক প্রথার চর্চা। নানা রঙের ফুল আর রঙিন কাগজে সাজানো প্যান্ডেলের একপাশে তরুণ আর অন্যপাশে তরুণীর দল। বাদ্যের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন তারা। রাখাইনদের বিশ্বাস, এই পবিত্র মঙ্গলজল ছিটানোর মাধ্যমেই ধুয়ে যায় বিগত বছরের সব অপ্রাপ্তি, অমঙ্গল ও অসংগতি।
কক্সবাজার শহরের ক্যাং পাড়া, চাউল বাজার, হাঙ্গর পাড়া, টেকপাড়া ও বার্মিজ স্কুল রোড থেকে শুরু করে মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া ও রামুর অন্তত অর্ধশত গ্রামে চলে এই জলিকেলি উৎসব।
বাংলাদেশ রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মংছেন হ্লা রাখাইন জানান, রোববার পর্যন্ত কক্সবাজারে শহরে জলকেলি উৎসব পালন করা হয়। নতুন বছরে সম্প্রীতি আর আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে এই উৎসব গুরুত্ব বহন করে। এ উৎসব দেখতে রাখাইন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সব ধর্মের লোকজন ছুটে আসেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী, টেকনাফ, চকরিয়া ও মহেশখালীতে সোমবার পর্যন্ত এ উৎসব চলবে বলে জানিয়েছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন।