
টাঙ্গাইলের সখীপুর পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে অন্তত ৫৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৯ জন শিশু ও ১০ জন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা উপজেলার কালিয়া, বড়চওনা, কাকড়াজান ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা ২টার দিকে কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামের আবদুর রশিদসহ কয়েকজন নারী ও শিশুকে কামড় দিয়ে একটি কুকুর সখীপুর পৌর শহরের দিকে প্রবেশ করে। এরপর আন্ধি থেকে উত্তরা মোড় পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে কামড়ায়।
গতকাল রাত ১০টার দিকে কুকুরটি কাহারতা গ্রাম হয়ে কচুয়া এলাকায় যায়। সোমবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫৩ জনকে কামড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলা জুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আহতদের দ্রুত সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় রেবিস ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহত আবদুর রশিদকে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরিন আকশিষ সামি বলেন, একদিনে এত সংখ্যক কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা অস্বাভাবিক। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই একাধিক স্থানে কামড়ের শিকার হয়েছেন। তাদের নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারভূক্ত নয়। তাছাড়া কুকুর মারা নিষেধ এবং কুকুর ধরার জন্য আধুনিক কোনো সরঞ্জামও আমাদের কাছে নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রনি বলেন, ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে, আমরা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছি।
তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।