ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেনের অনন্য কৃতিত্ব

চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেনের অনন্য কৃতিত্ব

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ-কে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন’ (আএমও)-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘এওয়ার্ড ফর এক্সেপ্টশনাল ব্রাভেরি এট সী-২০২৬’ (সমুদ্রে অসাধারণ বীরত্বের জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার)-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে কর্ণফুলী চ্যানেলে একটি বড় ধরনের শিল্প ও পরিবেশগত বিপর্যয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলা করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ পুরস্কার আগামী ১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪,৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস বোঝাই, ১৫৯.৯ মিটার দীর্ঘ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবাহী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’-কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর (বার্থিং) দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় হঠাৎ করেই কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায় এবং প্রবল স্রোতের টানে জাহাজটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

ইঞ্জিনের শক্তি হারিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জাহাজটি দ্রুতগতিতে পার্শ্ববর্তী কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির দিকে ধেয়ে যেতে থাকে। এই অত্যন্ত দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থবোঝাই জাহাজটির সঙ্গে জেটির সংঘর্ষ হলে ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারত; যা চট্টগ্রামবাসীর ব্যাপক প্রাণহানি, বন্দর অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি এবং দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক প্রবেশপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় হাতে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন আসিফ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতা ও নিখুঁত দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটির গতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নোঙর (অ্যাঙ্কর) ফেলার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে বন্দরের ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (VTMS)-এর মাধ্যমে উদ্ধারকারী টাগবোটগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে জাহাজটিকে বিপরীত দিকে টেনে ধরার দিকনির্দেশনা দেন।

এই নিখুঁত ও দূরদর্শী কৌশলের ফলে নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটির গতি থমকে যায় এবং ‘গ্যাস হারমোনি’ জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ১.২ মিটার দূরত্বে এসে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে থেমে যায়।

ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ নিজ জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দক্ষতা, মেধা, দৃঢ় মনোবল এবং অসীম সাহসের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে; অন্যথায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জেটি ও আন্তর্জাতিক নৌপথের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারত।

ক্যাপ্টেন আসিফের এই অনন্য দক্ষতা ও বীরত্ব ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে এবং ‘গ্যাস হারমোনি’ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও মালিকপক্ষের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য, আইএমওর (IMO) অসাধারণ বীরত্ব পুরস্কার বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর অন্যতম, যা সমুদ্রে নিজের জীবন বাজি রেখে বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা রোধে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রদান করা হয়।

অনন্য কৃতিত্ব,হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন,চট্টগ্রাম বন্দর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত