অনলাইন সংস্করণ
২১:৫২, ০৯ জুলাই, ২০২৬
প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে 'স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা' জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নীতিমালা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপন হবে।
ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর ফলে কোনও ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোটার উপস্থিত হলে সেখানে ভোট দিতে একজন পুরুষ গড়ে ৪৮ সেকেন্ড ও নারী ৫৮ সেকেন্ড সময় পাবেন। সাধারণ ও উপনির্বাচনে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ এবং প্রতি ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।
ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর ফলে ভোটকক্ষে ভোট দেওয়ার একাধিক গোপন স্থান (মার্কিং প্লেস) নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণে আগের নিয়ম বহাল রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংশোধিত ভোটকেন্দ্র নীতিমালা জারির বিষয়টি জানিয়েছে ইসি।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। আগের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ৪০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারিত হতো।
একইভাবে আগে ৩০০-৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারিত হতো। এখন ওই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতি ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর ফলে ভোট দেওয়ার একাধিক গোপন স্থান (মার্কিং প্লেস) নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণ ও উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ একই নিয়মে স্থাপিত হবে।
ভোট গ্রহণের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকার গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণে আগের যে নিয়ম ছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে।
ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বেশি থাকে। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশি হয়। এ ছাড়া তিনটি পদে (চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য) নির্বাচন হওয়ায় তিনটি ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণে সময় বেশি লাগে।
এসব দিক বিবেচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশন ওই সংখ্যা বাড়ানোর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়লে ভোটারদের ভোট দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। ভোট গণনা করতেও বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের মতে, নতুন ব্যবস্থায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও ভোটকক্ষের সংখ্যা কমবে। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলও কম লাগবে এবং সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে। কমিশনের ধারণা, ভোটার তালিকায় থাকা প্রবাসী, মৃত ভোটার ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ ভোট দিতে আসেন না। ফলে প্রকৃত ভোটার উপস্থিতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই থাকবে এবং নতুন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনও সমস্যা হবে না।