
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন কিশোর ও যুবককে তল্লাশি এবং হয়রানির অভিযোগে এক কথিত পুলিশ সোর্সকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। মো. আলমগীর হোসেন নামে ওই কথিত সোর্সকে আজ বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন।
এ ঘটনায় হরিরামপুর থানার এএসআই মো. সোহেল রানাকে ক্লোজড করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের বলড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন কিশোর ও যুবকের শরীর তল্লাশি করেন। তাদের কাছে কোনো কিছু না পেয়ে তারা উপজেলার হারুকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুরের দিকে চলে যান।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাদের পিছু নিয়ে দক্ষিণ চাঁদপুর এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে আটক করে বলড়া ইউনিয়নের বলড়া মোড়ে নিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর নিজেকে হরিরামপুর থানায় কর্মরত এএসআই মো. সোহেল রানার সোর্স হিসেবে পরিচয় দেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, আলমগীরকে আটকে রাখার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলমগীর স্থানীয়দের জানাচ্ছেন, দুপুর ২টার দিকে পিপুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এএসআই সোহেল রানা, আলমগীর ও একজন অটোরিকশাচালক মিলে মাদক উদ্ধারের উদ্দেশ্যে কয়েকজনের শরীর তল্লাশি করেন। পরে তারা দক্ষিণ চাঁদপুরের দিকে চলে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিরা লোকজনকে হয়রানিমূলক তল্লাশি ও মারধর করেছেন। খবর পেয়ে হরিরামপুর থানায় কিলো ডিউটিতে থাকা এসআই মোহাম্মদ মাসুদ মুন্সী ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমগীর হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসেন।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, “এসআই মাসুদ মুন্সী আলমগীরকে থানায় নিয়ে এসেছেন। আলমগীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এ ঘটনার পর হরিরামপুর থানার এএসআই মো. সোহেল রানাকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মাছুম।