অনলাইন সংস্করণ
১৮:৩৩, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
পবিত্র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৪৪৮ হিজরি/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রে বরেণ্য কবিদের নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠের জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নবীজি (সা.)-কে নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠের জন্য ১৬ জন কবিকে বোরদা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।
১৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকার ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বোরদা অর্থ চাদর। মক্কা বিজয়ের সময় নবী করিম (সা.) কবি কাব বিন জুহাইরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে নবীজি (সা.) তাকে ক্ষমা করে দেন।
শুধু তাই নয়, সেই মজলিসে কবি কাব বিন জুহাইর যে কবিতা পাঠ করেন, তাতে মুগ্ধ হয়ে প্রিয়নবী (সা.) নিজের গায়ের চাদর বা বোরদা কবিকে উপহার দিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নেন। নবীজির সেই সুন্নাতের অনুকরণে বায়তুশ শরফে এবার ১৬ জন কবিকে বোরদা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মওলানা রূমীর মসনবী শরীফের অনুবাদক ও ভাষ্যকার, কবি এবং গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলমান বাংলা সাহিত্যের শেকড়সন্ধানী প্রধান কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইতিহাস গবেষক ও লেখক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
কবি ও মাওলানা ইসমাইল মুফিজীর সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কালামে হাকিম থেকে কবি ও কবিতা সংক্রান্ত পবিত্র কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত ও তরজমার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
শেখ সাদী (র.)-এর বিখ্যাত নাতে রাসুল (সা.) ‘বালাগাল উলা বিকামালিহি’র অসাধারণ অনুবাদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলায় সংগীত আকারে রচনা করেন। গানটি পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কণ্ঠশিল্পী মেহেদী হাসান।
অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও ফার্মাসিস্ট কবি হাসান আলীম, বিশিষ্ট কবি ও লেখক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আশরাফ আল দীন, বিশিষ্ট সাংবাদিক কবি মুজতাহিদ ফারুকী, দৈনিক নয়াদিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর, কবি কামরুজ্জামান এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক কবি জামাল উদ্দীন বারী।
সামনের সারিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি নূর আল ইসলাম, কবি তাজ ইসলাম, কবি আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন, ত্রৈমাসিক অহনার সম্পাদক কবি রহমান মাজিদ, কবি মুর্শিদ উল আলম, কবি মালেক মাহমুদ, কবি ইসমাইল মুফিজী এবং নজরুল গবেষক মো. হুমায়ুন কবীর। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও ছড়াশিল্পী আতিক হেলাল।
শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. আনিসুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাউসার মুহাম্মদ আবুল উলায়ী।
অনুষ্ঠানে স্বরচিত নাতে রাসুল পরিবেশন করেন কবি ওয়াহিদ আল হাসান ও কবি গোলাম নবী পান্না।
কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন কবি হাসান আলীম, কবি আশরাফ আল দীন, কবি মুজতাহিদ ফারুকী, কবি জাকির আবু জাফর, কবি রানা জামান, কবি নূর আল ইসলাম, কবি জামাল উদ্দিন বারী, কবি কামরুজ্জামান স্বপন, কবি মুর্শিদ উল আলম, কবি গোলাম নবী পান্না, কবি সালেহ মাহমুদ, কবি মালেক মাহমুদ, কবি মৃধা আলাউদ্দিন, কবি হুমায়ুন কবির, কবি জুয়েল আদিব, কবি ও সাহিত্যসমালোচক তাজ ইসলাম, কবি আমিন আল আসাদ, কবি রবিউল মাশরাফী, কবি রহমান মাজিদ, কবি ইসমাঈল মুফিজি, কবি জাফর পাঠান, কবি আলতাফ হোসাইন রানা, কবি ওয়াহিদ আল হাসান, কবি আবুল খায়ের নাঈমুদ্দিন, কবি মোহাম্মদ ইসমাইল, কবি সিমান্ত আকরাম, কবি আবদুল্লাহ আল মুহসিন, কবি জাবির জাহিদ, কবি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সেলিম, কবি রাশেদ মুনির, কবি আসাদুজ্জামান, কবি ফরিদ সাঈদ ও কবি মো. জহির উদ্দিন প্রমুখ।
রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের অর্ধশতাধিক কবি এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।