ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মির্জাপুরে ৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

মির্জাপুরে ৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কলিমাজানি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। থেমে থেমে কাজ চলায় কবে নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কলিমাজানি নদীর ওপর ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজের কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

সেতুর মূল কাজের ৫০ শতাংশও শেষ হওয়ার আগে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের চাপের মুখে মাঝে মাঝে কাজ শুরু হলেও পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে দুই বছর পার হওয়ার পর দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। পরে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শাহজাহান পুনরায় সেতুর কাজ শুরু করেন।

দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকা সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ায় কবে নাগাদ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন, আর কত দিন এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে?

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাড় থেকে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়েছে। তবে মাঝখানের কিছু অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। আগের মতোই খেয়াঘাট দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা নদী পারাপার হচ্ছেন। তবে সেতুর কাজ শুরুর পর খেয়াঘাট স্থানান্তর করায় নদী পারাপার আগের চেয়ে আরও কষ্টসাধ্য হয়েছে। তারপরও নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, একদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হতে পারবেন।

এলাকাবাসী জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচঢালাই সড়কটি কলিমাজানি নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। নদীর উত্তর পাড় থেকে খেয়ানৌকায় পার হয়ে কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পথহারা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, দক্ষিণ পাড় থেকে খেয়ানৌকায় নদী পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরাও এ পথে চলাচল করেন।

নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। কলিমাজানি, নয়াপাড়া ও ভানুয়াবহ গ্রামের বাসিন্দারা কালিয়াকৈল উপজেলার আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে তাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

কলিমাজানি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক আশা করেছি, ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে নদীর ওপারে যাব। কাজের যে গতি, তাতে সেই আশা পূরণ হবে কি না, বলতে পারছি না। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।’

সাবঠিকাদার মো. পারভেজ বলেন, ‘আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কাজ পাওয়ায় এ কাজটিতে ভাটা পড়ে। তা ছাড়া তাদের আর্থিক সংকটও হয়েছিল বলে শুনেছি। আমরা এখন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর মূল কাজ শেষ করতে পারব।’

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, সেতুটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রথম দিকে ভালোভাবেই কাজ করেছিল। পরে হঠাৎ তারা কাজে গাফিলতি শুরু করে। তবে নির্মাণকাজ চালিয়ে নিতে কার্যালয় থেকে তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের অংশীদারেরা কাজ করছেন। আশা করা যায়, সেতুর মূল কাজ শেষ করতে আর বেশি সময় লাগবে না। দ্রুতই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং তাদের ভোগান্তি কমবে।

ভোগান্তিতে এলাকাবাসী,সেতুর কাজ,মির্জাপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত