অনলাইন সংস্করণ
১৬:১৪, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া, চীন ও ইরান রয়েছে। তবে কিছু দেশ এই ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
চীন রোববার মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার মিত্র দেশ রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কারাকাসে হামলাকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এই হামলার পেছনে বিশ্বাসযোগ্য কোনো যুক্তি নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায় মস্কো। দেশটির সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে রাশিয়া।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, মাদুরোর শাসনকাল শেষ হওয়ায় তার সরকার তেমন কোনো উদ্বেগ দেখছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও নিন্দা জানাবে না যুক্তরাজ্য।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জয় হোক স্বাধীনতার’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে মিলেই পরিচিত।
মার্কিন হামলাকে ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেছেন, এই কার্যক্রম সীমা অতিক্রম করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলার’ অভিযোগ তুলেছেন।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে দেশের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বের কথা বলা প্রয়োজন।