অনলাইন সংস্করণ
১৬:৫৭, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় তারা এই শোক প্রকাশ করেন। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শোকবার্তাগুলো প্রকাশ করা হয়।
গত ২ জানুয়ারি পাঠানো শোকবার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তিনি বাংলাদেশের জনগণ এবং প্রয়াত নেত্রীর পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় গুতেরেস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অধিকার করে আছেন। দীর্ঘদিনের জনসেবা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছেন।
শোকের এই সময়ে তিনি প্রয়াত নেত্রীর পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, গত ৩০ ডিসেম্বর পাঠানো শোকবার্তায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করেন তিনি।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শোকের এই সময়ে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষ থেকে ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশি জনগণ, বাংলাদেশ সরকার এবং মরহুমার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও গভীর সহমর্মিতা জানানো হচ্ছে। মহান আল্লাহ যেন মরহুমাকে জান্নাতবাসী করেন এবং শোকাহত পরিবারসহ সবাইকে এই দুঃখ সইবার ধৈর্য ও সান্ত্বনা দান করেন—এ প্রার্থনাও তিনি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। পরদিন বিকেল পাঁচটার দিকে স্বামী সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।