অনলাইন সংস্করণ
২০:১৬, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার জিআইজেড কর্তৃক প্রস্তাবিত পাঁচটি প্রকল্পের জন্য ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই প্রকল্পগুলো হলো: পলিসি এ্যাডভাইজারি ফর প্রমোটিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি (পিএপি) ২, স্ট্রেনদেনিং আরবান ইন্টিগ্রেশন ক্যাপাসিটিস অব ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড পার্সনস অ্যান্ড সাপোর্টিং হোস্ট কমিউনিটিস (ইন্টিগ্রেট), প্রফেশনাল এডুকেশন ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি (পিআরইসিআইএসই), গ্রিন রুম এয়ার-কন্ডিশনিং (জিআরএসিই) এবং ডিজিটাল স্কিলস টু সাকসিড ইন এশিয়া (ডিএস২এস)।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেড ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেনরিখ-জুর্গেন শিলিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
পিএপি ২ প্রকল্পটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। জার্মান সরকার এ প্রকল্পের জন্য নয় মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিকভাবে ন্যায়সংগত এবং পরিবেশগতভাবে সুষম জ্বালানি রূপান্তরের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ-সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
ইন্টিগ্রেট প্রকল্পটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাস্তবায়িত হবে। জার্মান সরকার ৪.৮০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান প্রদান করেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বাস্তুচ্যুত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা।
পিআরইসিআইএসই প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। জার্মান সরকার ৭ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করেছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশে টিভিইটি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।
জিআরএসিই প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। জার্মান সরকার ০.৮ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু বান্ধব এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী রুম এয়ার কন্ডিশনিং প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি করা।
ডিএস২এস প্রকল্পটির জন্য অতিরিক্ত ০.১৭৫২১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। মূল প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নৈতিকতাভিত্তিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের মাধ্যমে এশিয়া অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করা।
জার্মান সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ১৯৭২ সাল থেকে জার্মান সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মোট প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশে ১৮টি প্রকল্পে ১০০.৭২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সহায়তা প্রদান করছে।