অনলাইন সংস্করণ
২০:৩৮, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতায় বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দোসর হিসেবে কাজ করছে।
প্রধান বিচারপতি মোহসেনি-এজেই বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে শত্রুদের সহায়তাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘যদি কেউ দাঙ্গা সৃষ্টি করতে বা অস্থিরতা ছড়াতে রাস্তায় নামে বা তাদের সমর্থন করে, তাদের জন্য আর কোনো অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না। বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ স্পষ্ট। তারা এখন ইরানের শত্রুদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।’
ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একের পর এক উসকানিমূলক মন্তব্য এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যখন ইরানের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করছে।’
মোহসেনি-এজেইয়ের সতর্কবার্তার পর ইরানের সেনাপ্রধানও ইরানবিরোধী ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের’ জবাবে আগাম সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সামরিক একাডেমির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, তারা ‘যেকোনো আগ্রাসীর হাত কেটে দিতে’ প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। শত্রু যদি কোনো ভুল করে, তাহলে তাকে আরও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।’
ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত মাসের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ পতনের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করলে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট গভীর অর্থনৈতিক সংকট এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে মানবাধিকার কর্মীদের তথ্যমতে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।