
কূটনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কা এড়িয়ে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। এ বৈঠকে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এক আরব এক কর্মকর্তার বরাতে গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন— মিসর, কাতার, তুরস্ক এবং ওমানের মধ্যস্থতায় এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই বৈঠক সম্ভব হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, এবং ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। বৈঠকে সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারা থাকবেন। আসন্ন সেই বৈঠকে আলোচনার প্রধান এজেন্ডা থাকবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলছে, যার ফলে ২০২২ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতও হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরও সম্পর্কের তিক্ততা কমেনি। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তবে গত ১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আশা করি, আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে সক্ষম হব।
একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, “কয়েকটি মিত্রদেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে— তাহলে ফের আলোচনা হতে পারে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কয়েকটি মিত্রদেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচকরা সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে আসে, তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে।
সূত্র : এএফপি