ঢাকা সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শামছুল ইসলামের বিরুদ্ধে জিডি

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শামছুল ইসলামের বিরুদ্ধে জিডি

সংবাদ প্রকাশের জেরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার শামছুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নেত্রকোনার সাবেক জেলা প্রশাসক এবং বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বনানী বিশ্বাস।

গত বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর রমনা মডেল থানায় তিনি এই জিডি করেন।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ), রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (র‌্যাক) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।

শামছুল ইসলাম বলেন, বনানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে ওই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্তও চলছে। এ ঘটনায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে এই জিডি করেছেন। জিডিতে বনানী বিশ্বাস যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নেতারা বলেন, সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা বেড়ে চলেছে, যা উদ্বেগজনক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার সঠিক বিচার না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা বা ভয়ভীতি দেখানো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। বনানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে প্রত্যাহার করা তার দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ বহন করে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মাসউদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, শামছুল ইসলাম দেশের স্বনামধন্য গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বনানী বিশ্বাস যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

বিএসআরএফের দফতর সম্পাদক গৌতম চন্দ্র ঘোষের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। তাকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

একইভাবে রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (র‌্যাক) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। র‌্যাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক, আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী একে সাংবাদিক হয়রানির স্পষ্ট উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই বনানী বিশ্বাসের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে ২৫ আগস্ট তাকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।

জিডি,সাংবাদিক শামছুল ইসলাম,সংবাদ প্রকাশের জের
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত