ঢাকা শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঢাবি নিয়ে করা মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

ঢাবি নিয়ে করা মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’-এর সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ায় তা প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ মে) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

এর আগে, ‘SameerScane’ নামে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ববি হাজ্জাজের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করেন। এ ছাড়া, গবেষণায় দেশের দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে ওই বক্তব্য দেওয়া হয়নি দাবি করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

ওই পডকাস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমি তো ঢাকা ইউনিভার্সিটিকে বলি কোচিং সেন্টার। নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যা গবেষণা করে, তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয় বরং ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা কোচিং সেন্টারের মতো পরিচালিত হচ্ছে।”

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। তাদের ভাষ্য, প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্য দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ‘চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’।

এ বিষয়ে ফেইসবুক পোস্টে ববি হাজ্জাজ লেখেন, “আমি মূলত বলতে চেয়েছি, সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।”

ওই বক্তব্যের কিছু অংশ ‘ভুলভাবে বোঝা’ হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, “প্রথমত, এগুলো সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।”

ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, "গত সতের বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে, এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

“প্লেজারিজমের মত অনৈতিক অ্যাকাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।”

পডকাস্টের আলোচনাটি সম্পূর্ণ ‘অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন’ ছিল মন্তব্য করে ববি হাজ্জাজ লিখেছেন, “এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হত, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হত।

“তবে একটি বিষয়ে আমি স্পষ্ট; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে তার অবদানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয় বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।”

নিজের বিশ্বাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বে রয়েছেন, তারাও এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সমৃদ্ধ, আরও গবেষণানির্ভর এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে- এটাই আমার প্রত্যাশা।”

সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে–এমন সংস্কৃতি গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথাও লিখেছেন প্রতিমন্ত্রী।

আবা/এসআর/২৬

ঢাবি,মন্তব্য,প্রত্যাহার
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত