
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের আবেদনের পর তড়িঘড়ি করে বেসরকারি খাতের জন্য এই বাজার খুলে দেওয়ার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সরকার বলছে, বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনুমান নির্ভর ও অসত্য তথ্য’ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে শনিবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নীতিমালার খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই নীতিমালা নিয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুমান নির্ভর ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের তথ্য প্রচার অনভিপ্রেত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এর আগে, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড গত ২৪ মে সরকারের কাছে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আবেদন করে। পরে ২ জুলাই এ বিষয়ে মতামতের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসিতে পাঠায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এর এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করা এবং অন্তত ৬০ দিনের মধ্যে জনমত গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে তা ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে জরুরি বা সংকটের সময় সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তরফে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করার কথাও বলেছে সরকার।
আবা/এসআর/২৬