
সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত এমপিরা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন। এরপর সবাই শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে শপথ নেন বিএনপির এমপিরা। তবে বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
এবারের নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসন পেয়েছে।
এর আগে সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর ১২টায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে। সংসদ ভবনে তারা যাবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।
বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের এমপিরা।
প্রসঙ্গত, সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পড়ান জাতীয় সংসদের স্পিকার, কিন্তু চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট হয়নি। এছাড়া দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আজ মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করছেন।