ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আবুল আহসান চৌধুরী

দীপ্তমান এক দীপ্রনাম

কাজল রশীদ শাহীন
দীপ্তমান এক দীপ্রনাম

বিশ্ববিদ্যালয় যাদেরকে শিক্ষক হিসেবে পেলে গৌরববোধ করে, তিনি তাদের অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাকালীন উপাচার্য পি জে হার্টগ এই মানের শিক্ষকদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূলত এরাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রধানত দুটি কাজ। শিক্ষকতা ও গবেষণা। এর মধ্যে আবার গবেষণাটা জরুরি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো জ্ঞান উৎপাদন করা। বর্তমানের জ্ঞানকাণ্ডকে প্রশ্ন করা। অতীতের আলোয় ভবিষ্যৎকে নির্মাণের পাথেয় জোগানো। আবুল আহসান চৌধুরী ছিলেন সেইরকম শিক্ষকদের প্রতিভূ। পেশাগত জীবনের পুরোটাই কাটিয়েছেন শিক্ষতায়। শিক্ষকতা ও গবেষণায় কৃতীমুখ, ঈর্ষণীয় এক জ্ঞানসাধক। সম্প্রতি চুকিয়েছেন শিক্ষকতা জীবনের প্রতিদিনের রোজনামচা। কিন্তু গবেষণায় হয়েছেন আরও বেশি নিবেদিত। আমরা জানি, বাংলা ভাষার কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে গবেষণায় তিনি আক্ষরিক অর্থেই তুলনারহিত এক নাম। অর্ধশতক ধরে লালন-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-কাঙাল হরিনাথ-মীর মশাররফ হোসেনের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে উনার অনুসন্ধান দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে- প্রশংসা ও সমীহ জাগিয়েছে বিদ্বজ্জনদের। উনার সংগ্রহে এখনও এমন সব আকর তথ্য-উপাত্ত রয়েছে, যা যে কোনো গবেষকের জন্য ঈর্ষণীয়। অবসর জীবনেও তিনি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন সেসব এষণা। আবুল আহসান চৌধুরীর কাজের বিস্তার ও পরিধি যেমন ঐশ্বর্যমণ্ডিত তেমনই বহুধাবিস্তৃত। ছোট্ট পরিসরে তো নয়ই এক দুটো বইয়ের মোড়কেও সেই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা দুরূহ। সেই দুরূহ কাজটা করার চেষ্টা করেছেন উনার যোগ্য উত্তরসূরি মাসুদ রহমান।

আবুল আহসান চৌধুরীর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের আলোচনা করেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে যে কারও মনে হতে পারে, লেখাগুলো বই নিয়ে উপরিতলের কথকতা বিশেষ। কিন্তু মাসুদ রহমানের কাজটা কোনোভাবেই তেমনটা নয়। এই বইয়ে তিনি মূলত পৃথকভাবে কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছেন। যার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে উনার প্রাবন্ধিক সত্তার সারবান সত্তা ও স্বাতন্ত্র্যিকতা। বইয়ের সূচিপত্রের দিকে দৃষ্টি রাখলেই বিষয়টা প্রতিভাত গভীরভাবে- এক. বাউল, বাউলেশ্বর ও বাউলবিদ্বেষের অজান খবর, দুই. মীরমানসসিন্ধু : উদ্ধারপর্ব সমাপন, তিন. রবীন্দ্রবীক্ষায় আবশ্যিক আকর : রবীন্দ্রনাথ ও শিলাইদহ : যুগলবন্দী প্রেক্ষণ, চার. এক নক্ষত্রের গতিপথ, পাঁচ. কাজী আবদুল ওদুদ পত্রাবলী, ছয়. কাজী মোতাহার হোসেনকে নিয়ে মোতিহার, ছয়. অনুসরণীয় নজরুল-অনুসন্ধান, সাত. অন্নদাশঙ্কর অন্বেষণ, আট. আলাপচারী আহমদ শরীফ : একজন সক্রেটিসের জবানবন্দি, নয়. নেয়ামাল বাসির, দশ. শিল্পী ও মানবী, এগার. কালের সমীক্ষা, কালস্রষ্টার সমীক্ষা, বার. অ্যানটিক-আবহে রেনেসাঁর দলিল। এ ছাড়া পরিশিষ্ট অধ্যায়ে রয়েছে- এক. তার জন্মপ্রভাতের আলোয়, দুই. জন্মদিনে সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা, তিন. আবুল আহসান চৌধুরী : গ্রন্থপঞ্জি।

মাসুদ রহমান বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক। আলোচ্য বইয়ের ভূমিকায় উনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, চেয়েছিলেন কবি হতে। আবুল আহসান চৌধুরীর সান্নিধ্য-প্রযত্ন ও পরম অভিভাবকত্বে হয়ে উঠলেন গবেষক। আবুল আহসান চৌধুরীও কবি হতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের জন্ম মুহূর্তের দিনগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে উনার কবিতার বই। সেই অর্থে তিনি বাংলাদেশের সমান বয়সী কবি। যদিও কবিতার জগতে থাকেননি খুব বেশিদিন। দ্রুতই গবেষণায় নিবিষ্ট হয়ে যান। গবেষণা হয়ে ওঠে উনার এক জীবনের সাধনা। কিন্তু আমরা যদি আবুল আহসান চৌধুরীর গবেষণালব্ধ বইগুলো পাঠ করি নিবিড়ভাবে-গভীর আন্তরিকতায়; তাহলে দেখব শব্দচয়ন, বাক্যের গড়ন, শব্দের ব্যবহার-সমন্বয় ও ভাষার ব্যবহারে প্রকৃষ্টভাবে হাজির নাজেল আছে একজন কবি মানসের প্রবল উপস্থিতি। বোঝা যায়, তিনি কবিতার জগৎ ছেড়ে এলেও কবিতা উনাকে ছাড়েননি। আবুল আহসান চৌধুরীর ছাত্রমাত্রই নিশ্চয় স্বীকার করবেন শ্রেণিকক্ষে তিনি যখন পাঠকার্যে নিবেদিত হন তখন একজন কবিই যেন শিক্ষকরূপে মূর্ত হন এবং ঝুলি থেকে পাঠ করতে থাকেন অগণন কবিতা। এ বইয়ের কল্যাণে মাসুদ রহমানকেও চেনা যায় আক্ষরিক অর্থেই উনার যোগ্য উত্তরসূরি রূপে। তিনিও পরিব্রাজক হয়ে উঠেছেন অভিভাবকের পথে ক্রমশ ঋদ্ধ করে চলেছেন গবেষণা মান, প্রতুল হচ্ছে বইয়ের সংখ্যা, জারি রেখেছেন নতুন জ্ঞান উৎপাদনের সমূহ প্রচেষ্টা।

আবুল আহসান চৌধুরী গবেষণায় এককভাবে নির্মাণ করেছেন নিজস্ব একটা জগৎ, যা থেকে কিছুটা আলো এনে আমাদের সামনে হাজির করেছেন মাসুদ রহমান। একজন গবেষককে এক পলকে বোঝার জন্য এ ধরনের কাজের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। অবশ্য এ ধরনের কাজ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর করা উচিত। নতুন গবেষক-পাঠক যেন সহজে পূর্বসূরির কাজ সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারে- তার জন্য এ ধরনের বই জানালা বিশেষ। নতুনদের সামনে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ ইশারার হাতছানিতে অতুলনীয়। বেদনার হলো আমাদের দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই ধরনের মনোবৃত্তি প্রয়াস ও প্রচেষ্টা দৃশ্যমান নয়।

আবুল আহসান চৌধুরী লালন গবেষণায় কেবল পাঠকদের কাছে নয়, লালন অনুরাগী শ্রোতা, লালন ঘরাণার সাধক-ভক্তকুল ও শিল্পীসহ লালন নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করা সবার কাছেই সবিশেষ শ্রদ্ধেয়জন। এক্ষেত্রে তিনি পৌরহিত্য করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বলা যায়, তিনি ‘অথোরিটি’ হয়ে উঠেছেন লালন গবেষণায়। স্বগতোক্তির মতো অনেকেই জানিয়েছেন উনাদের বাউলপ্রীতি ও লালন প্রেমের পেছনে সলতে পাকানোর কাজটা করেছেন আবুল আহসান চৌধুরী। এই তালিকায় আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে পারি অন্নদাশঙ্কর রায়কে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মনের মানুষ’ যা গৌতম ঘোষ রূপান্তর করেছেন সেলুলয়েডের ফিতায়। সেসবের নেপথ্যেও ছিলেন আবুল আহসান চৌধুরী।

লালনের জন্মস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিসহ অনেক ধোঁয়াশা এবং ‘কথিত’ উপাদানসমূহ দূর হয়েছে আবুল আহসান চৌধুরীর গবেষণায়। লালনকে নাগরিক সমাজের কাছে আরও বেশি আদৃত করার ক্ষেত্রে-প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে লালন গবেষণাকে উৎসাহিত ও স্থায়িত্ব করার ক্ষেত্রে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি তাদের অন্যতম। লালন গবেষণায় নিজেকেই তিনি উন্নীত করেছেন সার্থক এক প্রতিষ্ঠান রূপে। শুধু লালন গবেষণায় নয় কাঙাল হরিনাথ, মীর মশাররফ হোসেনসহ অনেকের ক্ষেত্রেই তিনি স্বয়ম্ভু এক প্রতিষ্ঠানে পরিগণিত হয়েছেন। মাসুদ রহমানের এই বই চৌধুরীর বহুধা বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক কাজের যৎকিঞ্চিত নমুনা হলেও গুরুত্ববহ। কেননা এই বই উনার গবেষণা সম্পর্কে যাদের নেই সম্যক ধারণা ও পষ্ট বোঝাবুঝি তাদের ক্ষেত্রে চৌধুরীর সমুদ্রসম গবেষণা জগৎ সম্পর্কে সেতুবন্ধের কাজ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। একথা কোনোপ্রকার ঢাক-ঢাক গুড়-গুড় না করে- কোনো প্রকার সংশয় না রেখে দায়িত্ব নিয়েই বলা যায়, বাংলা ভাষায় এই মুহূর্তে আবুল আহসান চৌধুরীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী গবেষক-সংগ্রাহক-সংকলক-লেখক। মাসুদ রহমানের এ বই সেই সাক্ষ্যকেই যথার্থ দিয়েছে, যুক্তিযুক্ত করেছে।

আমরা জানি, আবুল আহসান চৌধুরী লালন গবেষণার মতো কাঙাল হরিনাথ গবেষণায়ও ‘অথোরিটি’ বিশেষ। তিনি কাঙাল জীবনীর কেবল রচয়িতা নন, উনার দুষ্প্রাপ্য লেখালিখি-গ্রামবার্তা প্রকাশিকা পত্রিকা ও এতদ্বিষয়ক দলিল দস্তাবেজ সংগ্রহ করেনই ক্ষান্ত হননি, কাঙালের জীবন ও কর্মের আলোকে যথার্থ ও যথাযথ মূল্যায়নের কাজটি করেছেন। কাঙাল হরিনাথকে উপস্থাপন করেছেন ‘গ্রামীণ মনীষার প্রতিকৃতি’ রূপে। লক্ষ্যণীয়, অবিভক্ত বঙ্গ বা বাংলায় উনিশ শতকের নবজাগরণের কথা বলা হলেও সেখানে পূর্ববঙ্গের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এমনকি লালন-কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্থান হয়নি সেখানে। অথচ উনিশ শতকে শুধু নয়, বাংলা ভাষায় লালনের মতো আর একটি চরিত্রও নেই যিনি সাম্প্রদায়িকতা-জাতপাতের বিরুদ্ধে ওইরকমভাবে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। লালন যদি উনিশ শতকের বঙ্গীয় নবজাগরণের প্রতিনিধি স্থানীয় না হন, তাহলে সেই নবজাগরণের সামগ্রিকতা পূর্ণতা পায় কীভাবে?

কাঙাল হরিনাথ ব্যক্তির নিরীখে ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদকীয়তা ও সাংবাদিকতায় উনিশ শতকের গ্রাম বাংলায় নদীয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যে অবদান রেখেছেন, তাও সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে তুলনারহিত। অথচ বঙ্গীয় নবজাগরণের প্রতিনিধিকারকদের মধ্যে রাখা হয়নি উনাকে। এইসব উপেক্ষা, অনভিপ্রেত অবিচার বঙ্গীয় নবজারণকে যেমন বৃত্তবন্দি করেছে, তেমনি এর পতাকা যারা উড্ডীন করেছেন, তাদের মানস নির্মাণ, জ্ঞানকাণ্ডের ঔদার্য ও উজ্জ্বলতার প্রতি জারি রেখেছে বিবিধ প্রশ্ন। অতিসম্প্রতি সিগনেট প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে প্রসাদ সেনগুপ্তের বঙ্গীয় নবজাগরণ সম্পর্কিত বই ‘নবজাগরণের বঙ্গ ও বাঙালি’। লেখক সেখানে কাঙাল হরিনাথকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যার মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে পূর্ববঙ্গের কোনো কীর্তিমান। আমরা মনে করি, এর পেছনে রয়েছে আবুল আহসান চৌধুরীর কাঙাল হরিনাথবিষয়ক নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণা।

শুধু উনিশ শতকের ব্যক্তিত্ব কিংবা লালন-হরিনাথ-মীর মশাররফ, রবীন্দ্রনাথ-নজরুল নয়, চৌধুরীর গবেষণায় রয়েছে বিশ শতকের প্রতিভাবান বাঙালিও। রাধাবিনোদ পাল তাদের অন্যতম। যিনি বাঙাল মুলুকে যতটা পরিচিত তার চেয়েও অধিক পরিচিত হলো জাপানে। পূর্ববঙ্গের এই বাঙালিকে দেশটিতে অনেকটা ধর্ম প্রণেতাদের মতো করে দেবতাজ্ঞানে শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়। কারণ, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গঠিত আন্তর্জাতিক আদালতে জাপানকে যুদ্ধাপরাধীর তকমা ও জরিমানা থেকে রক্ষা করেছিলেন। ‘টোকিও ট্রাইব্যুনাল’ নামে পরিচিত সেই রায়ে রাধাবিনোদ পাল আইনের যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও যুক্তি হাজির করেন, তা আন্তর্জাতিক আইনের চৌহদ্দিতে মাইলফলক বিশেষ। আবুল আহসান চৌধুরীর গবেষণায় আমরা অনেকখানি অচেনা এই ব্যক্তিত্বের জীবন ও কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট করে জানার সুযোগ পেয়েছি। মাসুদ রহমান চকিতে আলোচ্য বইয়ে আমাদের সে বিষয়েও জানার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আবুল আহসান চৌধুরী যে মাপের ও মানের গবেষক, তাতে উনাদের কাজের ক্ষেত্রকে নানাভাবে বিকাশমান করার সুযোগ করে দেয়া জরুরি। এমনটা করা হলে দেশ ও জাতি উপকৃত হওয়ার নানা পাথেয় পাবে। দিশা জাগানিয়া গবেষণায় ধন্য হয়ে উঠবে ভাষা ও সাহিত্য। কিন্তু তেমনটা করা হয়নি। উনাদেরই মতো গবেষকদেরই খুব বেশি করে হওয়া উচিত ইমেরিটাস অধ্যাপক। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ার অধ্যাপক সত্যিকারার্থে উনাদেরই প্রাপ্য, মর্যাদার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। এসবের কোনো একটি হলেও উনারা গবেষণাটা চালিয়ে যেতে পারতেন। দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে উনাদের পর্যায়ের অধ্যাপকদের স্বাভাবিক অবসরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই নানাবিধ কাজের সুযোগ করে দেয়া হয়। কারণ, উনারা যা কিছু করেন তা তো নিজের জন্য নন, উনাদের কাজ মূলত দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই।

লেখার শুরুতেই বলেছিলাম, আবুল আহসান চৌধুরী সেই মানের একজন শিক্ষক-গবেষক, যাদের পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গর্ববোধ করে-ধন্য হয়ে ওঠে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীলতায় সমর্পিত একজন নৈয়ায়িক ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে ক্ষমতাসীন যারা তাদের আদশির্ত শিক্ষক রাজনীতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন সদা সোচ্চার। সেই রাজনীতির নির্বাচনী লড়াইয়ে সর্বোচ্চ পদে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিতও হয়েছেন। অথচ উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত করা হয়নি। বিষয়টা সবার জন্য বেদনা ও পরিহাসেরও বটে। এমনকি উনার মতো লব্ধ প্রতিষ্ঠিত একজন গবেষক, যার সমপর্যায়ে এই সময়ে আক্ষরিক অর্থেই আরেকজন নেই। তবুও রাষ্ট্রের বড় কোনো সম্মান ও সম্মাননা পাননি আজও। বাংলা একাডেমি পেয়েছেন, তাও অনেক পরে। আবুল আহসান চৌধুরী সম্পর্কে যারা সবিশেষ অবগত নন। যাদের আগ্রহে ভাটা রয়েছে বিস্তৃত পরিসরে জানার ক্ষেত্রে। উনারা কিংবা উনাদের পরামর্শ ও প্রযত্নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহ মাসুদ রহমানের এই বই ‘আবুল আহসান চৌধুরীর বই নিবিড় পাঠ’ থেকেও জেনে নিতে পারেন আবুল আহসান চৌধুরীর গবেষণার ঋদ্ধতা সম্পর্কে।

আবুল আহসান চৌধুরী গবেষণায়-সংগ্রহে-সংকলনে বাস্তবিকই জীবনভর সাধনা করে যাচ্ছেন। যেখানে মূল লক্ষ্য হিসেবে আমরা খুঁজে পাই দেশ ও জাতির গর্ব ও গৌরব নির্মাণের সামূহিক প্রয়াস, যা তিনি ঋদ্ধ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। আমাদের প্রত্যাশা উনার এ অভিজ্ঞান শতায়ু হোক।

আলোকিত বাংলাদেশ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত