ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আমার প্রিয় বই

চাঁদের অমাবস্যা

শাহেদ কায়েস
চাঁদের অমাবস্যা

প্রিয় বইয়ের কথা উঠলে আমার মনে প্রথম যে কয়েকটি নাম আসে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ তাদের অন্যতম। প্রথম পাঠের পর বইটি বন্ধ করেও এর অন্ধকার থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারিনি। বিশেষ করে আরেফ আলীর অসহায়তা, ভয় এবং সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর অন্তর্গত লড়াই দীর্ঘদিন আমার ভেতরে রয়ে গেছে। পরে যতবার বইটি পড়েছি, ততবারই মনে হয়েছে, একই কাহিনি যেন নতুন কোনো অন্ধকারের মুখ খুলে দিচ্ছে।

শীতের জ্যোৎস্নাস্নাত এক রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা দিয়ে উপন্যাসের সূচনা। গভীর রাতে শারীরিক প্রয়োজনে বাঁশবাগানে গিয়ে আরেফ আলী আলো ও অন্ধকারের মাঝখানে আবিষ্কার করে এক যুবতীর মৃতদেহ। মুহূর্তেই শান্ত জ্যোৎস্নার রাত হয়ে ওঠে আতঙ্কময়। এই দৃশ্য থেকেই শুরু হয় তার ভয়, সংশয়, অপরাধবোধ ও বিবেকের দীর্ঘ লড়াই।

‘চাঁদের অমাবস্যা’ আমার কাছে শুধু একটি উপন্যাসের নাম নয়, মানুষের বিবেকের গোপন ভূখণ্ডে প্রবেশের এক গভীর অভিজ্ঞতা। একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে কাহিনি এগোলেও এর আসল নাটক ঘটে মানুষের মনে। আরেফ আলী এমন এক সত্যের মুখোমুখি হয়, যা প্রকাশ করার সাহস তার নেই, আবার অস্বীকার করার ক্ষমতাও নেই। এই দ্বন্দ্বই তাকে ক্রমে নিঃসঙ্গ করে তোলে।

ওয়ালীউল্লাহর গদ্যের যে দিকটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে, তা তাঁর সংযম। অল্প কথায় তিনি ভয়, অপরাধবোধ, ক্ষমতা, অসহায়তা ও বিবেকের সংঘাতকে এমনভাবে নির্মাণ করেন যে পাঠকও আরেফ আলীর সঙ্গে সেই অন্ধকারের অংশ হয়ে পড়ে। বাইরের জগতের চেয়ে মানুষের অন্তর্জগত এখানে অনেক বেশি বিস্তৃত।

আমার কাছে ‘চাঁদের অমাবস্যা’র সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। সত্য জেনেও মানুষ কেন নীরব থাকে, ক্ষমতার সামনে বিবেক কেন কেঁপে ওঠে, নিজের কাছেই মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে, উপন্যাসটি আমাকে বারবার এসবের মুখোমুখি দাঁড় করায়। তাই বহু প্রিয় বইয়ের ভিড়েও ‘চাঁদের অমাবস্যা’ আমার পাঠস্মৃতিতে এক গভীর, বিষণ্ণ ও অমোচনীয় উপস্থিতি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত